
চৌর্যবৃত্তির প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে ফেলতে নতুন প্রজন্মকে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেছেন, আমরা সরকার গঠনের পর কাজ শুরু করে দেখেছি দেশে নানা সংকট। দেশের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো পুরোটাই চৌর্যবৃত্তির কাঠামো। আমরা চেষ্টা করেও এই কাঠামো ভাঙতে পারিনি।
এই কাজে প্রশাসনের প্রতিটি স্তর থেকে বাধা এসেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরে গড়ে ওঠা এই কাঠামো দেড় বছরে ভাঙা সম্ভব নয়।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘প্রকৃতি এবং পরিবেশ : ছবিতে পৃথিবীর প্রতিধ্বনি’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ)’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএ’র সভাপতি এ কে এম মহসীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফিতা কেটে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এর আগে ‘বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ’ এবং ‘জ্বালানি ও পরিবেশ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ ধ্বংস চলছে। আমাদের দেশের অবস্থা আরো শোচনীয়।
আজকের প্রদর্শিত ছবিগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আমরা কেমন পরিবেশে বসবাস করছি। সরকারসহ সবার দৃঢ় সংকল্প না থাকলে এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে হলে যুদ্ধ করতে হবে। কোটা আন্দোলন থেকে যদি সরকার পতন হতে পারে, তবে পরিবেশ, নদী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আরো বড় আন্দোলন করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, হাজার হাজার শব্দের থেকে শক্তিশালী একটি ছবি।
পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় ফটোগ্রাফি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ ধরনের প্রতিযোগিতা স্কুল-কলেজসহ সারা দেশে আয়োজনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারব। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ধরার সদস্যসচিব শরীফ জামিল বলেন, একজন পরিবেশকর্মী সারাদিন কথা বলে মানুষকে যতটুকু বোঝাতে পারেন, একজন ফটো সাংবাদিকের তোলা একটিমাত্র ছবি তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনসচেতনতা তৈরির এই শক্তিশালী মাধ্যমটিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঢাকা শহরের পরিবেশ কতটুকু খারাপ, তা বোঝার জন্য এখন আর কোনো গবেষণার প্রয়োজন নেই; আমরা খালি চোখেই তা দেখতে পাচ্ছি। পরিবেশ বিপর্যয়ের এই ছবি আলোকচিত্রের মাধ্যমে জোরালোভাবে ফুটে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ধরার সদস্য ও রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, তারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. শওকত আরা বেগম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন জ্বালানি বিভাগে প্রথম মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (বিডিনিউজ২৪.কম), দ্বিতীয় হাবিবুর রহমান (ডেইলি স্টার, খুলনা) ও তৃতীয় মিনহাজ উদ্দিন (বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)। পরিবেশ বিভাগে প্রথম মামুনুর রশীদ (সমকাল), দ্বিতীয় মেহেদী হাসান (আজকের পত্রিকা) এবং তৃতীয় শেখ নাসির (ডেইলি স্টার, সিলেট)। দেড় হাজার ছবির মধ্য থেকে বিচারকদের রায়ে নির্বাচিত সেরা ৩৫টি ছবি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:২২:০৭ ৫ বার পঠিত