বিপিডিবির কাছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানির পাওনা ১৪ হাজার কোটি টাকা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » বিপিডিবির কাছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানির পাওনা ১৪ হাজার কোটি টাকা
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



বিপিডিবির কাছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানির পাওনা ১৪  হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানিগুলোর বকেয়া পাওনার অঙ্ক উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে ৮ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত পরিশোধ না করায় বর্তমানে এসব কম্পানির মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বিল বকেয়া থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে। এমতাবস্থায় রমজান মাসের আগেই ৬০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা।

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরেন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ডেভিড হাসনাত, সাবেক সভাপতি ইমরান করিম, পরিচালক নাভিদুল হক ও ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, বকেয়া বিলের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের চাপ মিলিয়ে এসব কম্পানি ইতিমধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনা ও জ্বালানি আমদানির অর্থ জোগাতে বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে, যা তাদের আর্থিক সক্ষমতাকে আরো দুর্বল করে তুলছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের অভিযোগ, বকেয়াজনিত আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু জাতীয় লোড বণ্টন কেন্দ্রের মাধ্যমে বাস্তব চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা দেখিয়ে ক্ষতিপূরণমূলক জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েছে বিপিডিবি। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দাবি, অপর্যাপ্ত সরবরাহ দেখিয়ে এই জরিমানা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কাগজে-কলমে বিপিডিবির বকেয়া কম দেখানো যায়। ভুক্তভোগী কম্পানিগুলোর দাবি, এই জরিমানার মূল কারণ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের বিল পরিশোধে ব্যর্থতা, যার দায় অন্যায়ভাবে তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

এই বকেয়া সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে দেশীয় ও বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপে ভিন্নতা থাকায় খাতে বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এ বিষয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনে আবেদন করা হলে প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে তা খারিজ করা হয়। পরে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরিমানা কর্তনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকায় চুক্তির ন্যায়সংগতা ও দেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বক্তব্যে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, আমরা বকেয়ার টাকা না পেলে জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারব না। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও চালানো সম্ভব হবে না। এবার গ্রীষ্মে গত বছরের তুলনায় তাপমাত্রা বাড়বে, তাই বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা না গেলে লোডশেডিং করতে হবে। তাই রমজান মাসের আগেই আমাদের মোট বকেয়ার ৬০ শতাংশ যাতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখতে পারবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৮:০৮   ৮ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


লিভারপুলের মাঠে ম্যানসিটির রোমাঞ্চকর জয়
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিতে পারবেন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা : ইসি সানাউল্লাহ
জামালপুরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত
বিপিডিবির কাছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানির পাওনা ১৪ হাজার কোটি টাকা
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বাড়ানো হয়েছে বিনিয়োগ লক্ষ্য
১২ ফেব্রুয়ারি দেশ গঠনের নির্বাচন : তারেক রহমান
মালয়েশিয়ায় জাহাজসহ ৮ বাংলাদেশি ক্রু আটক
ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা নিয়েই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার গানে নেচেছি : আয়েশা খান
চরাঞ্চলে কোস্ট গার্ডের ৩৫৮৫ সদস্য মোতায়েন থাকবে : মহাপরিচালক
নাটোরে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ