নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বাড়ানো হয়েছে বিনিয়োগ লক্ষ্য

প্রথম পাতা » অর্থনীতি » নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বাড়ানো হয়েছে বিনিয়োগ লক্ষ্য
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বাড়ানো হয়েছে বিনিয়োগ লক্ষ্য

সরাসরি-বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলের এবং বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার (’জানুয়ারি-জুন’ ও ‘জুলাই-ডিসেম্বর’ সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।

অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়।

গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে।

বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া‌নো হ‌য়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।

একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশ‌মিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৩:৫৪   ১৭৬ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
সাইবার সতর্কতায় দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স
মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের দুর্ভোগ কমাবে ফ্যামিলি কার্ড: তিতুমীর
নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী
এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভরতা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে : অর্থমন্ত্রী
বাংলাকিউআরে ৯০ দিনে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ
অস্ট্রিয়ার ওইইবির সঙ্গে প্রাইম ব্যাংকের ঋণচু্ক্তি

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ