
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বসতঘরের টিনের চালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি ঋষিপাড়া এলাকায় নিরঞ্জন ঋষি ও নিতাই ঋষি পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাউসি ঋষিপাড়া গ্রামের মৃত নরেন চন্দ্র ঋষির ছেলে নিরঞ্জন ঋষির গোসলখানার পানি নিষ্কাশন নিয়ে প্রতিবেশী নিতাই ঋষির সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ইতিপূর্বে স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং নিরঞ্জন ঋষি তার পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার পরেও নিতাই ঋষির পক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে প্রায়ই নিরঞ্জন ঋষির ঘরের টিনের চালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নিরঞ্জন ঋষি এর প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহতরা হলেন, নিরঞ্জন ঋষি, নিতাই ঋষি, অনন্ত ঋষি, সুজন ঋষি, মায়া রানী ঋষি শ্যামল ঋষি ওরফে ফকির, রতন ঋষি, মমতা ঋষিসহ আরও কয়েকজন।
আহতদের মধ্যে নিরঞ্জন ঋষি ও অনন্ত ঋষির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরঞ্জন ঋষির বসতঘরের টিনের বেড়া ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
নিরঞ্জন ঋষি বলেন, “প্রতিপক্ষের অব্যাহত অত্যাচারে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫০:২০ ১৬ বার পঠিত