![]()
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরকে মারধরের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। এসময় ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে দেশব্যাপী কর্মসূচি করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পৌরশহরের সড়কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা মারধরের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারীরা মব কালচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়, তারা দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করবে।
জানা গেছে, সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তদন্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ ইউনিয়ন পরিষদে একটি কমিটি পাঠান। তদন্তে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ কোনো প্রাথমিক প্রমাণ পাননি।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। সোমবার দুপুরের দিকে দলীয় নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। দেড় হাজার কেজি চাল ইউপি চেয়ারম্যান আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ তুলেন। একপর্যায়ে তারা চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর হামলা চালান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি চেয়ারম্যান ও তার সহকর্মীদের মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করছে। হামলার এক পর্যায়ে হুমায়ন কবির দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি বিবৃতি দিয়েছে।
দলের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ‘ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। স্থানীয় প্রশাসনও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
হুমায়ন কবির বলেন, ‘বিএনপি নেতারা মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। তদন্তে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তারপরও হামলা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমাদের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে।
বিএনপি নেতা সোহেল সিকদার বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনে তদন্ত করতে এসেছি। হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটবে ভাবিনি।’
বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া জানান, দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম সোহেল রানা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দেননি; অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও রুমানা আফরোজ জানান, হামলার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:১২:২৫ ১২ বার পঠিত