বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬



ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চু্ক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রায় আট বছর আলোচনার পর গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে অধিকাংশ শুল্ক তুলে নেয়া হবে, বাড়বে রফতানি এবং উভয়পক্ষই পাবে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা।

একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্যের বাইরে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতাও জোরদার হবে। এছাড়া খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে বলে মনে করছে ইইউ কমিশন।

দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

ইউরোপীয় কমিশন বলছে, এই চুক্তির ফলে অস্ট্রেলিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইইউ’র সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যতা আসবে। একই সঙ্গে চীনের ওপর নির্ভরতা কমবে।

সম্প্রতি চীনের সংকোচনমূলক রফতানি নীতির কারণে চাপে ছিল ইইউ। চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় রফতানির ওপর ৯৯ শতাংশের বেশি শুল্ক তুলে নেয়া হবে। এর ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করবে এবং রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

ইইউর রফতানিকারক, উৎপাদক ও কৃষকরা শুল্কে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করবে। ইইউ কর্মকর্তারা বলেন, আগামী এক দশকে অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের পণ্য রফতানি ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে এবং আমাদের কৃষকরাও আরও বড় বাজার সুবিধা পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের বাণিজ্য চুক্তির পর হওয়া এই চুক্তি ইউরোপের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কৌশলেরই অংশ।

অন্যদিকে চুক্তিটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। এতে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করবে বলে মনে করেন তিনি।

তার কথায়, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আট বছরের আলোচনার পর আমরা এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে পেরেছি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে এই চুক্তি আমাদের জন্য বড় অর্জন।’

চুক্তির আওতায় বাণিজ্যের পাশাপাশি, দুই পক্ষ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতেও সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং অনলাইন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ নেয়া হবে। যা দুই পক্ষের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৩:৫৫   ৯ বার পঠিত