
বিশেষ প্রতিবেদন : একটি সমাজ কতটা সুস্থ, তা নির্ভর করে সে দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর। কিন্তু যখন দেখা যায়, একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগেই আদালতের বারান্দায় আইনজীবীরা প্রস্তুত থাকেন তাকে জামিন করাতে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক,আমরা আসলে কোন পথে হাঁটছি?
মাদকের বিরুদ্ধে আমরা মানববন্ধন করি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি, রাজপথে স্লোগান দিই। কিন্তু দিনশেষে যখন দেখা যায়, পুলিশ যাকে অনেক কষ্টে ধরে আদালতে সোপর্দ করল, সে ব্যক্তি আইনের কোনো এক ফাঁকফোকর দিয়ে বিকেলেই বীরদর্পে বাসায় ফিরছে, তখন মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধ আন্দোলন তার সার্থকতা হারায়।
সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব, কিন্তু অপরাধ নির্মূলের চাবিকাঠি থাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার হাতে। যখন এই প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।
মাদক নির্মূল না হওয়ার পেছনে বড় কারণ কেবল আইনের অভাব নয়, বরং যারা আইন প্রয়োগ ও বিচারকার্যের সাথে জড়িত, তাদের অনেকের আদর্শ ও নৈতিকতার স্খলন।
একজন আইনজীবীর কাজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু অপরাধ জেনেও কেবল অর্থের বিনিময়ে অপরাধীকে সুরক্ষা দেওয়া নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্বলতা বা সাক্ষীর অভাবের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্র যদি তার বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আমূল পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনতে না পারে, তবে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে আগামী প্রজন্ম।
একটি রাষ্ট্রে যখন অপরাধীরা ক্ষমতার দাপটে বা আইনি মারপ্যাঁচে পার পেয়ে যায়, তখন হারটা কেবল পুলিশের বা আদালতের হয় না, হার হয় এদেশের সাধারণ মানুষের। অন্যায়, অবিচার আর দুর্নীতির এই চক্র থেকে মুক্তি পেতে হলে বিচারব্যবস্থাকে শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে রাজপথের প্রতিবাদের চেয়েও বেশি জরুরি আদালতের এজলাসে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। অপরাধী যেই হোক, তার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং নৈতিকতা সম্পন্ন বিচারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর অন্যায়ের দাপট, এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হতে থাকবে আমাদের সমাজ।
ইসমাইল হোসেন
জামালপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৪:২৯ ৬৪ বার পঠিত