![]()
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, যদিও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে আসছে। এমন মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফর শেষে সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এমন মন্তব্য করেন।
এই সফরে তিনি ইরান-নির্মিত ড্রোন মোকাবেলায় ইউক্রেনের দক্ষতা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে এই ড্রোনগুলো কিনেছে এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে সেখানে ব্যাপক হারে সেগুলো নিক্ষেপ করে আসছে।
জেলেনস্কির এই সফরে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তার মধ্যপ্রাচ্য সফরে ইসরাইলে যাত্রাবিরতি কেন ছিল না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি চ্যানেল ১২-কে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহু বা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ, কারোর কাছ থেকেই তিনি কোনো যোগাযোগ পাননি।
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা কাউকে পাঠাইনি। কেউ আমাদের কাছে সাহায্য চায়নি।’
‘আমরা এই সফরগুলো করেছি ফলাফল পাওয়ার জন্য। শুধু যাওয়ার জন্য নয় বা শুধু কথা বলার জন্যও নয়। আমরা সাহায্য করতে চাই।’ জেলেনস্কি ব্যাখ্যা করেন।
চলতি মাসের শুরুতে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী জেলেনস্কির সঙ্গে একটি ফোন কলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ড্রোন হামলা থেকে প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, জেলেনস্কি রাজি হলেও নেতানিয়াহু কখনো ফোন করেননি।
‘আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী সবসময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চান। এমনকি রাশিয়া যখন ইরানকে সাহায্য করছে, তখনও আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী ভারসাম্য রক্ষা করছেন।’ বলেছেন জেলেনস্কি।
প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেন ইসরাইলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাশিয়াকে সন্তুষ্ট করতে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
গত বছর বাশার আল আসাদের শাসনের পতনের আগে যখন রাশিয়া সিরিয়ার আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করত, তখন ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করেছিলেন। তারপর থেকে, কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ইচ্ছুক হলেও, নেতানিয়াহু তা করা থেকে বিরত থেকেছেন।
চ্যানেল ১২-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর প্রতি তার বার্তা হলো: ‘তার যা প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে আছে। আমাদের যা প্রয়োজন, তা তার কাছে আছে।’
‘তিনি এ বিষয়ে খুব ভালো করেই জানেন।’ জেলেনস্কি বলেন এবং যোগ করেন যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ‘আমরা ইসরাইলকে বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছি যে তারা সাহায্য করলে তা প্রশংসিত হবে।’
‘কিন্তু আমাদের তা মনে হলেও ইসরাইলের তা মনে হয়নি।’ বলেন জেলেনস্কি।
এছাড়া সাক্ষাৎকারের সময় জেলেনস্কি আরও বলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের কাছে প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সরবরাহ করছিল, তা এই অঞ্চলে হামলা চালাতে ইরান ব্যবহার করেছিল বলেও জানানো হয়।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এও প্রমাণ দিয়েছেন যে, রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ও ইউরোপীয় সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ছবি সরবরাহ করছিল।
‘আমি মনে করি, রাশিয়া শতভাগ সরাসরি ইরানকে সমর্থন করছে। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে তারা যেমনটা করেছিল, ঠিক সেই পদ্ধতিতেই স্যাটেলাইট চিত্র শেয়ার করছে।’ চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনের প্রতিধ্বনি করে জেলেনস্কি একথা বলেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৮:০৭ ৯ বার পঠিত