বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সদরপুরে ২০০ বছরের পুরাতন শ্মশান সংস্কার কাজের উদ্বোধন।

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সদরপুরে ২০০ বছরের পুরাতন শ্মশান সংস্কার কাজের উদ্বোধন।
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬



সদরপুরে ২০০ বছরের পুরাতন শ্মশান সংস্কার কাজের উদ্বোধন।

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন একটি শ্মশান ঘাটের সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ ০১ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ শাওন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বয়াতী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মোঃ আইউব বেপারী, ইউপি সদস্য আঃ লতিফ সিকদার সাবেক ইউপি সদস্য ও হিন্দু সম্পদায়ের নেতা রাধাকান্ত মালো(ফেলা),তপন রায় সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ইতিহাস থেকে জানা যায় প্রায় ২০০ বছর পূর্বে ঢেউখালী ইউনিয়নের বাসুদেব ভট্টাচার্য এবং চিন্তাহরন ভট্টাচার্যের পূর্বপুরুষ চরডুবাইল গ্রামের ৫১ নং ডুবাইল মৌজায় সার্বজনীন শ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত করেন।শশীভূষন সুত্রধর,হরিপদ সূত্রধর, নগরবাসী কর্মকার, নগেনকর্মকার সহ অনেক হিন্দুরা এখানে শেষকৃত্য কাজে সহযোগীতা করতেন।
তখন থেকে ঢেউখালী, চরডুবাইল, হরিন্যা,চরব্রাহ্মন্দী, বাবুরচর,আলেখার কান্দা সহ সদরপুর ও আশপাশের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের শেষকৃত্যের জন্য এই শ্মশানঘাটটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হরিন্যা মালোপাড়া ও চরব্রাহ্মন্দী এলাকার হিন্দুদের সহযোগীতা ও নিজস্ব অর্থায়নে শ্মশানঘাটটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শ্রী বাসুদেব কর্মকার। তিনি বলেন,দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। আজ সংস্কার কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হলো।
এ সময় বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষক, সমাজসেবক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিভাবক শ্রী বাসুদেব সূত্রধর। তিনি বলেন,“এই ঐতিহ্যবাহী শ্মশানটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে এটি আরও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অনেক সুবিধা হবে।”উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ শাওন তার বক্তব্যে বলেন,“সরকার সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই শ্মশানের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।”চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতী বলেন এর উন্নয়নে আমাদের সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা শ্মশানটির সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৮:২৭   ৫ বার পঠিত