
নতুন হ্যারি পটার টিভি সিরিজ নিয়ে ভক্তদের অপেক্ষার অবসান শেষ হলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। চলতি বছরের বড়দিনে মুক্তি পেতে যাওয়া নতুন হ্যারি পটার টিভি সিরিজ নিয়ে এখন নেটদুনিয়ায় তোলপাড়।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ট্রেলারটি নব্বই দশকের মানুষদের (মিলেনিয়াল) মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সিঁড়ির নিচের ছোট ঘর, কিংস ক্রস স্টেশনের ৯-৩/৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম আর হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসের সেই চিরচেনা শব্দ। ট্রেলারে দেখা গেছে ৪ নম্বর প্রিভেট ড্রাইভে ডার্সলি পরিবারের সেই হট্টগোল আর ডায়াগন অ্যালির রহস্যময়তা। তবে রেডিটসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের একাংশ বেশ অসন্তুষ্ট।
মিলেনিয়ালদের মতে, নতুন এই ট্রেলারে সেই পুরনো ম্যাজিক বা জাদুর উজ্জ্বলতা কম। কালার গ্রেডিং বা দৃশ্যায়ন কিছুটা রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল মনে হচ্ছে। অনেকের প্রশ্ন—যেখানে মূল সিনেমাগুলো এখনও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে, সেখানে এই রিমেকের প্রয়োজনীয়তা কী?
নতুন প্রজন্মের (জেন জি ও জেন আলফা) কাছে এই সিরিজটি এক নতুন বিস্ময়। যারা বই পড়েনি বা আগের সিনেমাগুলো দেখেনি, তাদের কাছে এই জাদুর জগত একেবারেই নতুন।
রেডিটের আলোচনায় একদল বলছেন, পুরনো চরিত্রদের আবার ফিরে দেখা (স্নেইপ, ম্যাকগোনাগল, ডাম্বলডোর) হবে দারুণ এক অনুভূতি। অন্যদলের মতে, ট্রেলারটি দেখে মনে হচ্ছে এতে সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে।
সিরিজটি নিয়ে উত্তেজনার মাঝেও বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেখিকা জে কে রাউলিং-এর ব্যক্তিগত মন্তব্য। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় নিয়ে তার বিতর্কিত অবস্থানের কারণে অনেকেই এই সিরিজ বয়কট করার ডাক দিয়েছেন।
জে কে রাউলিং-এর বই অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজে এবার একঝাঁক নতুন মুখ দেখা যাবে। সিরিজটির শো-রানার হিসেবে আছেন ফ্রান্সেসকা গার্ডিনার ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মার্ক মাইলোড। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লিভসডেন স্টুডিওতে সিরিজটির দৃশ্যধারণের কাজ চলছে।
এই সিরিজে নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা থাকছেন— হ্যারি পটার চরিত্রে থাকছেন ডমিনিক ম্যাকলাফলিন। আরাবেলা স্ট্যানটন, আলাস্টেয়ার স্টাউট। এছাড়া অভিজ্ঞ অভিনেতারাও আছেন, যেমন ডাম্বলডোর চরিত্রে জন লিথগো। সিরিজটি প্রতি বই অনুযায়ী একেকটি সিজন হবে। মোট ৭টি সিজন পরিকল্পনা করা হয়েছে। মুক্তির সম্ভাব্য সময় ধরা হচ্ছে ২০২৭ সাল।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৭:০১ ১৫ বার পঠিত