![]()
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষকদের জন্য আনা ডিজেল তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা দিয়েছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস মোল্যা ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দোকার নাসিরুল ইসলাম নাসিরের সহযোগিতায় মেঘনা ডিপো থেকে কৃষি সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করা হয়। গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ওই তেল বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিতরণের জন্য আনা হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য প্রায় ২ হাজার লিটার করে ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কার্ডধারী প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিতরণের কথা রয়েছে।
তবে বিতরণের আগেই সাতৈর ইউনিয়নে তেল নামানোকে কেন্দ্র করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে তেলের গাড়ি অন্যত্র নামানো হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিএনপি নেতা ও সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠকে সমানভাবে তেল বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তেলের গাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত পছন্দের একটি দোকান ও বাড়ির সামনে নামালে উত্তেজনা শুরু হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় তেল উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করেন। তিনি বলেন, একটি মহল তেল আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
অন্যদিকে বোয়ালমারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মাও. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তাদের পক্ষ থেকে পূর্বে দলীয়ভাবে তালিকা তৈরি করে নির্দিষ্ট দোকানের মাধ্যমে তেল বিতরণের একটি পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত কিছু দোকানে তেল নামিয়ে দেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি অযথা রাজনৈতিকভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে।
এদিকে বোয়ালমারী যুব বিভাগের সভাপতি মুসফিকুর রহমান জানান, কৃষকদের সুবিধার জন্য ইউনিয়নভিত্তিক এক বা দুটি নির্দিষ্ট দোকানের মাধ্যমে ডিজেল বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এসব দোকানে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত রেখে কৃষকদের সহজে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার কথাও ছিল। তবে সাতৈর ইউনিয়নে তথ্য সঠিকভাবে না পৌঁছানোর কারণে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয় এবং এর ফলেই সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সবাই বসে আলোচনা করে ডিজেল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, উপসচিবের অনুমোদনের মাধ্যমে মেঘনা ডিপো থেকে কৃষকদের জন্য ডিজেল আনা হয়েছে এবং এটি শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকদের মাঝেই বিতরণ করা হবে। একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে সোমবার রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে তা সংরক্ষণে রয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ৩টা থেকে কার্ডধারী কৃষকদের মাঝে ডিজেল বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৬:৪৯ ১২ বার পঠিত