![]()
সকলের প্রশাসক হতে চাই মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আজকে আলোচনার বিষয়বস্তু নারয়ণগঞ্জের সকল মানুষের সমস্যা। সিটি কর্পোরেশনের সবাই সমান, আমি একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি প্রশাসক হিসেবে সকল দলের নেতৃবৃন্দকে সমানভাবে ট্রিট করার চেষ্টা করবো। আমি সকল নাগরিকের প্রশাসক হতে চাই এবং সকল নাগরিকের সাথে আমি কথা বলতে চাই। সকলকে নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে চাই। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।”
তিনি বলেন, আগামী ১৩ তারিখে আমরা ফুটপাত পরিষ্কার করবো। আমরা শক্তি প্রয়োগে করার বিশ্বাসী না। আগের দিন মাইকিং করব। পরে পর্যায়ক্রমে জিয়া হল থেকে বাপ্পি চত্তর, চাষাঢ়া মোড় থেকে খানপুর হাসপাতাল পর্যন্ত পরিষ্কার করবো। হকাররা আমাদের ভাই, তাদের মূল্যায়ন করতে চাই কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ইতোপূর্বে সিটি কর্পোরেশন থেকে তাদেরকে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই জায়গা তারা আর্থিক বিনিময়ে হস্তান্তর করেছে। হস্তান্তর করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। সুতরাং সেই মার্কেট আমি ভেঙ্গে দিব। ভেঙ্গে দিয়ে হকারদের বসার ব্যবস্থা করবো।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে শহরের আলী আহম্মদ চুনকা মিলনায়তনে হাকার উচ্ছেদ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নাসিকের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সকলের সহযোগিতা কামনা করে উচ্ছেদ অভিযানে সকলকে সংযুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, মার্কেট, দোকানদার, আড়তদার সমিতি সাথে মতবিনিময় করেছি। তারা সমর্থন জানিয়েছেন। হকার মার্কেট উচ্ছেদের পর প্রত্যেক মার্কেটেকে চিঠি দেয়া হবে। মার্কেটের সামনে যদি হকার বসে সেটা দায় দায়িত্ব সেই মার্কেটকে বহন করতে হবে। কোন বাধা সৃষ্টি হলে, সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়াবে। আমাদের দলের ‘হকারস ইউনিয়ন’ নামে একটি সংগঠন ছিল। সেই ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জে উড়াল ট্রেন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের যানজট, যাতায়াত সমস্যা সমাধান করতে হলে ট্রেনের কোন বিকল্প নাই। সব জায়গায় ট্রেন লাইন নির্মাণ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জকে প্রাথমিকভাবে ট্রেন লাইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উনি নির্দেশ দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে উড়াল ট্রেন বাপ্পি চত্তর থেকে সাইনবোর্ড, মদনগঞ্জ থেকে মদনপুর এবং আরেকটা পঞ্চবটি থেকে দুই নম্বর গেট রেল লাইনের সাথে যুক্ত হবে।”
সাখাওয়াত হোসেন খান আসার পর একটিও অটো লাইনেন্স দেননি মন্তব্য করে বলেন, “নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কোন প্লেট কাউকে দিব না। কিন্তু ইতোপূর্বে যেই প্লেটগুলি দেওয়া হয়েছে সেই প্লেট আমি পর্যালোচনা করবো। লিস্টে দেখেছি সর্বোচ্চ একজনের নামে ৩০০ প্লেট আছে। কারো নামে ১০০, ৬০-৭০ প্লেট আছে। পর্যালোচনা করে কি সিদ্ধান্ত নিবে এটা আপনারা বুঝে নেন।
শহরের অতিরিক্ত যানবাহনের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, “নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ অটো এখানে প্রবেশ করে। কিন্তু ২০ থেকে ২২ হাজার সবসময় শহরে থাকেই। এতটুক শহরের মধ্যে এতো অটো মেনে নিতে পারি না। যারা বেশি নিয়েছে তাদের কমিয়ে প্রকৃত অটোচালকদের দিবো। এবং প্লেট ব্যতীত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অন্যকোনো অটো প্রবেশ করতে পারবে না।”
পরিবহনে চাঁদাবাজির বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে তিনি বলেন, “আমি চিত্তরঞ্জন ঘাটে গাড়ি রেখে ওপাড়ে বন্দরে গিয়েছিলাম। সেখান সোনাকান্দা যাবো। সেখানে তিন জায়গার আমার অটো আটকে চাঁদা দাবি করছে। একটা অটো যদি এইটুক পথ যেতে প্রত্যেক জায়গায় ২০ টাকা করে ৬০ টাকা দেয় তাইলে এইটা কার উপরে পড়ে? নারায়ণগঞ্জের নাগরিকদের উপরে পড়ে এই ভাড়াটা। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী অর্থবছর কোন ঘাট, সিএনজি, অটো স্ট্যান্ডের টেন্ডার-ইজারা বাতিল করবো। লাইসেন্স গাড়ি বিনা পয়সায় চালাচল করবে। আমি পর্যালোচনা করে দেখেছি, এই খাত থেকে সিটি কর্পোরেশন ৫০-৬০ লাখ টাকা পায় কিন্তু চাঁদাবাজি হয় কোটি কোটি কোটি টাকার। সেটা জনগণের পকেট থেকে কাটা হয়। আমরা জনগণের পকেট কাটতে দিতে চাই না।”
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “রাত ১২ টাও পানির সমস্যা। নারায়ণগঞ্জ পুরাতন শহর, পাইপলাইনগুলি বহু বছর আগের। এগুলি পরিবর্তনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ৩৪টা পাম্পের মধ্যে ৩২টা পরিবর্তন করে শক্তিশালী পাম্প দেওয়া হবে। যাতে মানুষ সহজে পানি পায়। এছাড়া সরকারের চিন্তাভাবনা চলছে আরও সুপেয় পানি দেয়ার জন্য মেঘনা নদী থেকে পানি আনার। বিষয়গুলি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ”
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৫:১৬ ৯ বার পঠিত