![]()
মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরই এক রহস্যের নাম। উইকেটের আচরণ কেমন হবে সেটা সফরকারী দল তো দূরের কথা, স্বাগতিক দলও অনেক সময় বুঝতে পারে না। যেমনটা ঘটেছে সর্বশেষ ম্যাচে। ম্যাচের পর বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের এক সূত্র জানিয়েছেন, শেষদিকে পিচের অমন আচরণ নাকি আন্দাজ করতে পারেনি খোদ বাংলাদেশ দলই।
স্বাভাবিকভাবেই পিচ নিয়ে আলোচনা এসেছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনেও। কিউই পেসার নাথান স্মিথের বিশ্বাস, দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রথম ম্যাচের মতোই উইকেট পাওয়া যাবে। প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ে শরিফুল ইসলামের লেন্থকে অনুসরণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে দ্বিতীয় ম্যাচেও উইকেট প্রথমটির মতো হবে। দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট দেখে পাকিস্তান সিরিজের উইকেটের মতই লাগছে ফুটেজ দেখে। কিছুটা বেশি পেস থাকবে হয়তো। বাংলাদেশ মনে হয় প্রথম ম্যাচের উইকেটে বেশি গতি চেয়েছিল। দেখা যাক পরের ম্যাচে কেমন উইকেট থাকে। উইকেটে ঘাসের বেশ ভালো আবরণ আছে। তবে আমার মনে হয়, প্রচণ্ড গরমে উইকেট পুড়ছে এবং এর ফলে তা ভেঙে যাচ্ছে। ফ্লাডলাইট জ্বলে ওঠার সময় রোদের প্রভাবে পায়ের ছাপ ও ফাটলগুলো আরও দৃশ্যমান হচ্ছিল।’
বাংলাদেশ ভালো পিচ বানানোর চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দলে অনেক কোয়ালিটি পেস বোলার রয়েছে। তারা তাদের কাজে লাগাতে চাইবে। অসম বাউন্স আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। নেটে যেভাবে খেলেছি সেভাবেই মূল ম্যাচে খেলেছি। প্রস্তুতি ভালোভাবেই নিতে পেরেছি আমরা সব মিলিয়ে।’
বাংলাদেশের উইকেটে বোলারদের মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে টসকে প্রাধান্য দিয়েছেন স্মিথ। গত ম্যাচে আগে ব্যাট করা ব্যাটারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোলাররা সাফল্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্মিথ। তিনি জানান, প্রথম ইনিংসে কিউই ব্যাটাররা প্রতিনিয়ত বার্তা দিচ্ছিলেন যে, উইকেট নিচু হচ্ছে এবং বাউন্স অসমান।
শরিফুলের বোলিং দেখে তারা শিক্ষা নিয়েছেন এবং দীর্ঘক্ষণ স্টাম্প লাইন বজায় রেখে বল করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে টিকনারের স্লোয়ারগুলো উইকেটে থেমে আসছিল, যা তাদের সফল হতে সাহায্য করেছে। কন্ডিশন অনুযায়ী তারা নেটেও একই ধরনের উইকেটে অনুশীলন করেছিলেন বলে তিনি জানান।
স্মিথ বলেন, ‘ব্যাটারদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ ছিল। যে কারণে আমরা ভালোভাবে বুঝেছি উইকেট কেমন আচরণ করছে। শরিফুলের প্রথম বলটা এত লো হয়ে গিয়েছিল নিক কেলিকে প্রায় বোল্ড করে দিল। শরিফুল যে লেন্থে বল করেছে, আমরাও সেই লেন্থে হিট করে যেতে চেয়েছি। যতটা লম্বা সময় ধরে করা যায়। স্টাম্পে বল করতে চেয়েছি। বাউন্স অসম ছিল, পরে টিকনার দারুণ কিছু স্লোয়ার করেছে যেগুলো ভালো ছিল। লম্বা সময় ধরে এমন বোলিংয়েই সাফল্য এসেছে।’
তবে তীব্র গরমে আগে বোলিং করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই পেসার, ‘এই কন্ডিশনে আগে বোলিং করা নিশ্চিতভাবেই কঠিন। সেক্ষেত্রে সিমারদের স্পেল ছোট হওয়া উচিৎ, সর্বোচ্চ দুই বা তিন ওভার। এরপর বাইরে গিয়ে তরল খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে। এটি একটি দলীয় প্রচেষ্টা হবে যেখানে মাঠের বাইরের খেলোয়াড় ও স্টাফদেরও সাহায্য প্রয়োজন।’
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৬ রানের জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে কিউইরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৩:৫৬ ১১ বার পঠিত