বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ফয়সাল মোল্লাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো পিবিআই

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ফয়সাল মোল্লাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো পিবিআই
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬



ফয়সাল মোল্লাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো পিবিআই

পারিবারিক বিরোধ আর তুচ্ছ মোবাইল ফোন ছিনতাই–এই দুইয়ের জেরে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ফয়সাল মোল্লাকে।

রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মাত্র সাত দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম মোর্শেদ।

পিবিআই জানায়, গত ১৫ এপ্রিল আশুলিয়ায় ফয়সাল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন ফয়সাল তার আত্মীয় ও গরুর খামারি বিপ্লব হোসেন বিপুর দুই কর্মচারীর মোবাইল ও টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেন। এ নিয়ে বিপুর বড় ভাই মাসুদ নিহতের বাবাকে ফোন দিলে তিনি ক্ষোভের মুখে বলেন, ‘তোর যা মনে চায় তাই কর।’ এরপরই বিপু হুমকি দিয়েছিলেন, মোবাইল ফেরত না দিলে ফয়সালকে ‘জানে মেরে ফেলবেন’।

বিকেলে ফয়সাল নিজেই ছিনতাই করা মোবাইল থেকে বিপুকে ফোন করে একটি নার্সারি বাগানে ডেকে নেন। বিপু তার সহযোগীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছালে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা।

এসপি এন এম মোর্শেদ জানান, ঘটনার একপর্যায়ে বিপুর বড় ভাই মাসুদ অটোরিকশা নিয়ে সেখানে এসে রড দিয়ে ফয়সালকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। ফয়সাল তখন হতবিহ্বল হয়ে পড়লে বিপু কৌশলে ফয়সালের হাতে থাকা রামদাটি কেড়ে নেন এবং তা দিয়েই তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই গত ১৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার দায়িত্ব নেয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিপুর অবস্থান শনাক্ত করা হয় ফরিদপুরের বোয়ালমারী এলাকায়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের একটি দল।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেফতার বিপু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই রামদাটি ঘটনাস্থলের পাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও আমাদের হাতে এসেছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিছক মোবাইল ছিনতাই নয়, এর পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। এমনকি উভয় পক্ষের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত কিছু বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে। নিহত ফয়সাল ও গ্রেফতার বিপু সম্পর্কে নিকটাত্মীয় (ফুপাতো-মামাতো ভাই)।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ এপ্রিল আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও তার বড় ভাই মাসুদ এখনও পলাতক। পিবিআই জানিয়েছে, মাসুদসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২১:০১   ৬ বার পঠিত