
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে হলে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয়, বরং গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে সামগ্রিকভাবে জবাবদিহিতার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব কেবল নারী বা পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি আমাদের সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ। রাজনীতি ও গণমাধ্যম— এই দু’টি শক্তিশালী মাধ্যম যদি পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার আওতায় আসে। তখন সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।’
আজ দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সেমিনার কক্ষে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পিআইবি, জাগো ফাউন্ডেশন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী— উভয়কেই সারাক্ষণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা ও জনসেবা, আর গণমাধ্যমের লক্ষ্য সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে যদি সঠিক জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া না থাকে, তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। কারণ, শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারে।’
মোবাইল জার্নালিজম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে স্মার্টফোন হাতে থাকলেই যে কেউ কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন। একে অনেকে ব্যঙ্গ করে ‘মোজো’ সাংবাদিকতা বললেও এটি আসলে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে বিমূর্ত কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার কথা বলা অবাস্তব। জবাবদিহিতা হতে হবে সুনির্দিষ্ট অস্তিত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নজরদারি ও সুস্থ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’
গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পর্যায়ক্রমে সম্পাদক ও টেলিভিশন মালিকদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। অংশীজনদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।
এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। অনুষ্ঠানে ম্যানুয়াল উপস্থাপন করেন পিআইবি’র সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৩:৫৬ ৩ বার পঠিত