সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬



কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার

হাওড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকার একাধিক উদ্যোগ জোরদার করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইরেন স্থাপন, তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আজ সংসদে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আনীত মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

নোটিশে সংসদ সদস্য তার এলাকার হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি, গবেষণার অভাব এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকার চারটি উপজেলায় হাওড় বিস্তৃত থাকায় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সারা বছর কাজ করেন। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বজ্রাঘাতে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রাঘাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তার এলাকায় চারজন রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশ, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকায় বজ্রপাতের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি—প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টিরও বেশি বজ্রপাত ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখনো পর্যাপ্ত কার্যকর কর্মসূচি, সঠিক পরিসংখ্যান, বজ্রনিরোধক যন্ত্র বা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় হাওড় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত একটি গুরুতর ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে হাওড় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।

তিনি জানান, বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কতা দিতে সাইরেন স্থাপনের পরিকল্পনা, যাতে কৃষক ও জেলেরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন।

এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ঝুঁকি কমাতে ব্যাপকভাবে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি চালু রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাত নিরোধক টাওয়ার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি আরও জোরদার ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বজ্রাঘাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৮:০৭   ১১ বার পঠিত