![]()
ফরিদপুরে সাত বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার (ওরফে কবিতা) হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি দ্বারা গোয়েন্দা তৎপরতায় লাশ উদ্ধারের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন এ তথ্য জানান। এ সময় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আইরিন ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা বাকা মিয়া বিশ্বাস পেশায় একজন রিকশাচালক। পরিবারটি একটি আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করত।
গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় আইরিন।
সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরেও তাকে না পেয়ে পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় মা তাহমিনা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯২২) করেন।
নিখোঁজের ছয়দিন পর, ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বাখুন্ডা পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পচাগলা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করলে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে বাখুন্ডা এলাকার ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়—ইসরাফিল মৃধা চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আইরিনকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে নির্যাতনের চেষ্টা করে। শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর লাশ গোপন করতে সেটি একটি বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও অপর ছেলে রহমানকে লাশ সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেন। তারা লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ড্রামসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আজমির হোসেন জানান, প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।
এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৮৪) করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে রিকশাচালক বাবার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০১:২৫ ১৮ বার পঠিত