
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেছেন, “আমরা নারায়ণগঞ্জের ১০ লক্ষ জনগণকে কোনো হকারের কাছে জিম্মি হতে দিব না। শহর হকারমুক্ত থাকবেই, থাকবেই, থাকবে।”
সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পুনর্বাসনের আগে ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ না করার দাবিতে হকারদের স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে হকারদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি।
টিপু বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ও পরে বলেছেন- বাংলাদেশের যে সিটি কর্পোরেশনগুলো আছে, সেই সিটি কর্পোরেশনের জনগণের ভোগান্তি হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। শহরের মাঝখানে কোনো হকার রাখা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই সুবাদে সিটি কর্পোরেশন আমার নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের এই এপ্রিলে আমরা উচ্ছেদ করেছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে তারা বিভিন্ন সময়ে তাদের পুনর্বাসনের জন্য দাবি-দাওয়া করে আসছে। এইসব দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাদেরকে উচ্ছেদ করলেই হবে না, তাদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা করতে হবে। এই নির্দেশে এবং এই আদেশে আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যারা হকার আছে, যারা নারায়ণগঞ্জের সিটি এবং জেলার ভোটার, তাদেরকে আমরা স্থায়ী কোনো না কোনোভাবে পুনর্বাসন করবো। সেটা আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি, সম্মানিত ডিসি এবং এসপি মিলে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য আমরা কয়েকটা জায়গা নির্ধারণ করেছি, যার মধ্যে চানমারী মোড় থেকে হাজীগঞ্জ মাজার পর্যন্ত এলাকাটিকে আমরা স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।”
হকারদের জাতীয় পরিচয় জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা হকারদের বলেছি তাদের আইডি কার্ড জমা দেওয়ার জন্য। যেহেতু আসন্ন ঈদুল আযহায় তারা দাবি জানাচ্ছে- তাদেরকে কয়েকদিনের জন্য বসতে দেওয়ার জন্য, সেটা তারা দাবি জানাতেই পারে। যেকোনো নাগরিক তার সমস্যা তুলে ধরতে পারে। সেটা আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আলোচনা করে বিবেচনা করবো। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হলো- আমরা নারায়ণগঞ্জের ১০ লক্ষ জনগণকে কোনো হকারের কাছে জিম্মি হতে দিব না। শহর হকারমুক্ত থাকবেই, থাকবেই, থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা যে আবেদন বা অনুরোধ করছে ঈদের পূর্বে বসার জন্য, তা আমরা আলোচনা করে বিবেচনা করব। আলোচনায় যদি মনে করি যে না, এটা মানবাধিকার বা মানবিক কারণে প্রয়োজন, তবে তাদেরকেও অঙ্গীকার করতে হবে যে যদি তাদেরকে দুইদিন বা তিনদিন একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়, পরবর্তী সময়ে তারা যেন সেখান থেকে সরে যায়। কিন্তু তারা যদি বিশৃঙ্খলা করে বা আইনের অবমাননা করে, তাহলে আইন আইনের গতিতে চলবে।
হকারদের উদ্দেশ্যে এ বিএনপি নেতা বলেন, “কে কোন দলের সেটা বিবেচ্য নয়; তারা নাগরিক, তাদেরও পরিবার-পরিজন আছে, তাদেরও পেট আছে, আমরা সেটা বিবেচনা করব। কিন্তু একটা কথা আছে- বেলতলায় এই বেল পাওয়া যায়, তালতলায় এই তাল পাওয়া যায়। তারা উদাহরণ দেয় যে চানমারী গেলে তাদের ব্যবসা হবে না। আরে যখন ফুটপাতে কোনো পণ্য পাবে না, কম দামি পোশাক পাবে না, ফলমূল পাবে না, অন্যান্য পণ্য পাবে না, তখন এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে? চানমারীতেই পাওয়া যাবে।”
হকারদের পুনর্বাসনের চিন্তা করছেন জানিয়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “পাশাপাশি এবার একটা কথা বলি, নারায়ণগঞ্জ শহরে কোনো হকার থাকবে না। যেখানে আমরা স্থায়ী পুনর্বাসন করার চিন্তা করবো, সেখানে আপনাদেরকে যেতে হবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বলেছেন- হকার উচ্ছেদ করলে চলবে না, তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। সেই সুবাদে আমাদের পুনর্বাসন কোথায় স্থায়ী হবে তা আমরা চিন্তা করছি।”
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৯:২৭ ১১ বার পঠিত