মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ফরিদপুরে ৩০ বছরের অবৈধ আইসক্রিম কারখানায় অভিযান: জরিমানা ও মুচলেকা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ফরিদপুরে ৩০ বছরের অবৈধ আইসক্রিম কারখানায় অভিযান: জরিমানা ও মুচলেকা
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬



ফরিদপুরে ৩০ বছরের অবৈধ আইসক্রিম কারখানায় অভিযান: জরিমানা ও মুচলেকা

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : দূর থেকে আইসক্রিম বিক্রেতার ঘণ্টার শব্দ শুনলে গ্রামবাংলার শিশুরা যে কী পরিমাণ আনন্দ পায়, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু সেই হাসিমুখের আড়ালে ফরিদপুরের বাখুন্ডা বাজারে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলছিল অস্বাস্থ্যকর এক ব্যবসা। অবশেষে জনস্বাস্থ্যের হুমকির বিষয়টি আমলে নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ফরিদপুর প্রতিনিধি তামিম ইসলামের পাঠানো তথ্য ও ভিডিও চিত্রে বিস্তারিত:

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে সব বয়সী মানুষের কাছে আইসক্রিমের চাহিদা ব্যাপক। তবে এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা বাজারে গড়ে ওঠা ‘টেষ্টি আইসক্রীম ফ্যাক্টরী/ এলাকায় পরিচিত সাথী আইসক্রিম’তে চলছিল এক ভয়ংকর খেলা। গত ৫ মে কারখানাটিতে প্রাথমিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল শিশুদের প্রিয় আইসক্রিম।

সবচেয়ে বড় বিপত্তি ছিল আইসক্রিম বানানোর ধরনে। প্রচণ্ড গরমে একদম খালি গায়ে কাজ করছিলেন ইব্রাহিম ও সাগর নামে দুই শ্রমিক। তাদের শরীর বেয়ে ঝরা ঘাম মোছা হাত দিয়েই কোনো গ্লাভস ছাড়াই তারা প্যাকেটজাত করছিলেন আইসক্রিম। কারখানার চারপাশ জুড়ে ছিল ময়লা-আবর্জনা আর ড্রাম ভর্তি ভেজাল রঙ। অথচ বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে একদমই স্বাভাবিক। এমনকি প্যাকেটের গায়ে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেও আসছিলেন তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে।

ইব্রাহিম ও সাগর (শ্রমিক) এবং জাহেদা বেগম (মালিকের মা)

এদিকে কারখানার এমন দশার বিষয়ে মালিক রুবেল শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল দায় এড়িয়ে যান। কাগজপত্র ঠিক থাকার দাবি করলেও দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই চলছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।
ভক্সপপ ২ : রুবেল শেখ (মালিক টেষ্টি আইসক্রীম ফ্যাক্টরী/ এলাকায় পরিচিত সাথী আইসক্রিম, কল রেকর্ড)

৫ তারিখের সেই পরিদর্শনের রেশ ধরে আজ সোমবার দুপুরে কারখানাটিতে অভিযান চালায় ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্যাকেজিংয়ে ভুল তথ্যের প্রমাণ পাওয়ায় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না বলে মুচলেকা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

মো: মাহমুদুল হাসান, উপ-পরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর।

৩০ বছর ধরে চলা এই অস্বাস্থ্যকর ব্যবসা ধরা পড়ায় বাখুন্ডার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এলাকাবাসীর মতে, কেবল প্রশাসনের অভিযানই যথেষ্ট নয়; জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন অনিয়ম রুখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৯:১৮   ২২ বার পঠিত