বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা - সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা - সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬



অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা - সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। সরকার এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশব্যাপী সেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আয়োজনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অটিজম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয় কিন্তু বাংলাদেশে অনিবার্যকারণবশত আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন পপুলেশনের মধ্যে ৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের মেধার যোগ্যতা দিয়ে পূর্ণ মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে। অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের দূরে ঠেলে না রেখে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, এ বছরের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়- প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ আমাদের সকলকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রত্যেক মানুষই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বৈশিষ্ট্য। আমাদের দায়িত্ব হলো এই বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ করে দেওয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অটিজম শনাক্তকরণে প্রাথমিক স্তরে সচেতনতা, থেরাপি সেবার প্রসার, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তারা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করে সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়। এ বছর ৫টি ক্যাটাগরিতে ২৫ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তি, সফল সমাজকর্মী, প্রতিষ্ঠান, সফল পিতা-মাতা ও কেয়ারগিভারকে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অটিজম সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৯:১৬   ১২ বার পঠিত