
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধন করবেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ১৯ মে থেকে সারা দেশে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ শুরু হচ্ছে এবং আগামী ২১ মে পর্যন্ত তা চলবে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এ মেলা শুরু হবে।
এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনে বিভিন্ন স্টল ও সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এ সময় কল সেন্টার, নাগরিক সেবা কেন্দ্র এবং ডে-কেয়ার সেন্টারও ঘুরে দেখবেন তিনি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি সেবা এখন অটোমেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক সহজ ও জনবান্ধব হয়েছে। মেলার মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের এ নতুন সেবার সঙ্গে পরিচিত করা এবং সরাসরি সেবা প্রদান করা।
তিনি জানান, মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো- ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি বিভিন্ন ভূমিসেবা সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং কিছু সেবা মেলা প্রাঙ্গণ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতে পারবেন। মেলায় নাগরিকরা ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ, মৌজাম্যাপ সংগ্রহসহ অন্যান্য সেবা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবেন।
এছাড়াও, মেলা প্রাঙ্গণেই কিছু সেবা, যেমন- ই-নামজারি আবেদন গ্রহণ, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি বিতরণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভূমি সেবা সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য মেলায় জাতীয় হটলাইন ১৬১২২ এবং বিভাগীয় হটলাইন ০১৭০৬৮৮৮৭৮৭ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। এছাড়াও, মেলায় ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক তথ্যবহুল বুকলেট বিতরণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজ ভাষায় ভূমি সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ডিজিটাল জরিপ, ল্যান্ড জোনিং এবং জমি ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে মালিকানা সনদ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মধ্যে সমন্বয় করে একক ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও ই-নামজারি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেলার সাফল্যের জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া ভূমি সেবা আরও জনবান্ধব করার জন্য অটোমেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ (হিউম্যান টাচ) কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার আওতায় মিউটেশন, এলডি ট্যাক্স, খতিয়ানসহ বিভিন্ন সেবা অটোমেশন করা হয়েছে।
মেলার সময় সেবা প্রার্থীরা ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের পাশাপাশি খতিয়ান ও মৌজার সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণও মেলা থেকে সরাসরি প্রদান করা হবে।
মেলার অন্যতম বিশেষত্ব হলো নাগরিকদের ভূমি বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া। যেসব নাগরিক নিজের জমি বা ভূমি নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, তাদেরকে মেলার স্টলগুলোতে পরামর্শ দেওয়া হবে। এছাড়াও, জেলা প্রশাসনের স্টল, উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি সেবা প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন) নাসরিন জাহান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২০:০০ ৮ বার পঠিত