শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬



নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। খাদ্যদ্রব্যে নিরাপত্তার অভাব এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সেজন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

আজ দুপুরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ফেলোশিপ কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেলোশিপের ইনসেপশন সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে এক কেজি কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন, সেখানে তিন কেজি ব্যবহার করা হচ্ছে। শাক-সবজি, ফলমূল ও মাছে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের কারণে খাদ্যের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানির বড় সুযোগ থাকলেও খাদ্যের বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। এজন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মো. আব্দুল বারী বলেন, ২০ বছর আগেও দেশে এত ক্যানসার ছিল না। বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিকের প্রভাবে ক্যান্সারসহ নানা রোগ বাড়ছে। চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তিনি জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফএসএর সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও ড. মোহাম্মদ শোয়েব।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে জনগণ নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হয়। একইসঙ্গে খাদ্যে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশ এগিয়ে যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, খাদ্যে ভেজাল বর্তমানে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। এ সমস্যা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তিনি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাস্তব সমস্যাভিত্তিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ফেলোশিপের আওতায় অধিকাংশ গবেষণা খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে গবেষণা বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, নিরাপদ খাদ্য খাতে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে বিএফএসএ ফেলোশিপ নীতিমালা-২০২৪ এর আওতায় ‘ফেলোশিপ কার্যক্রম-২০২৬’ চালু করেছে। প্রথমবারের মতো চালুকৃত এ কার্যক্রমে ৩২৩টি আবেদন থেকে ২০ জন ফেলোকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

ফেলোশিপের আওতায় প্রতিজন ফেলোকে এক বছরে ৮৪ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হবে। এছাড়া সুপারভাইজারের সম্মানী ও গবেষণা ব্যয়সহ প্রতিজনের জন্য মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয় হবে।

বিএফএসএ ভবিষ্যতে এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও এ ফেলোশিপ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:১১   ১০ বার পঠিত