
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে এবং জেল থেকে জামিনে এসে বিবাদী পক্ষ মজনু শেখের লোকজন বাদী আলমাস শেখের পরিবারের বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয় সূত্র এবং মামলার নথি থেকে জানা যায়, মহাদান ইউনিয়নের বনগ্রাম গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আলমাস শেখের সাথে পুকুর সংস্কার ও জাল দিয়ে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মজনু শেখের ছেলে মোজাম্মেলের কথা কাটাকাটি হয়। গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে ভারী বর্ষণের সময় আলমাস শেখ পুকুরে নেট দিতে গেলে মজনু শেখের ছেলেরা বাধা দেয় এবং মারধর করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করায়, একই এলাকার আব্দুর রশীদ ও শিক্ষক শহীদুল্লাহ নামের দুই ব্যক্তিকে বিনা অপরাধে মজনু শেখের নেতৃত্বে তার পরিবারের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য আব্দুর রশিদকে জামালপুর এবং শিক্ষক শহীদুল্লাহ কে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন।
জানা গেছে, শিক্ষক শহীদুল্লাহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এই ঘটনায় বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেছেন আহতদের পরিবার।
মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে বিবাদী মজনু শেখ ও তার ছেলেরা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তারা জামিনে এসে অভিযোগ তোলেন যে, বাদীপক্ষ তাদের বোরো ধান কাটতে দিচ্ছে না এবং গোয়ালের গরু, পাওয়ার টিলার, সেচ পাম্পসহ দোকানের মালামাল লুট করেছে।
তবে, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিবাদীরা কোনো প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়াই নির্ভয়ে দিনমজুর নিয়ে নিজেদের জমির ধান কেটে ঘরে তুলছেন। এছাড়া তারা যা কিছু লুট হওয়ার দাবি করেছেন, তার সবকিছুই তাদের বাড়িতে অক্ষত ও ঠিকঠাক অবস্থায় রয়েছে।
বাদী পক্ষের আলমাস শেখ ও আব্দুর রশীদ বলেন:
“আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে ও কয়েকজন জেলহাজতে থাকায় সময়মতো বোরো ধান কাটতে পারেনি। এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে এবং মামলা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে তারা গণমাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে মালামাল লুট ও ধান কাটায় বাধার মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। আমরা এই মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারেক ও নান্নু মিয়া জানান, বিবাদীপক্ষ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সংঘাত ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে আসছে। তাদের ভয়ে গ্রামবাসী সবসময় আতঙ্কে থাকে।
অপপ্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করে মজনু শেখ, ও মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় আমরা সময়মতো ধান কাটতে পারিনি, এটা সত্য। তবে বর্তমানে কৃষি বিভাগের তোফাজ্জল হোসেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কোনো বাধা ছাড়াই শ্রমিক দিয়ে জমির ধান কেটে ঘরে তুলছি।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৭:০০ ১৫ বার পঠিত