
কুয়েতে নির্দিষ্ট কিছু খাতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য চালু করা বিশেষ শ্রমিক স্থানান্তর (লেবার ট্রান্সফার) কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৪৪০ জনের বেশি বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মী উপকৃত হয়েছেন। দেশটির শ্রমবাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে চালু করা এ উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত থেকে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় এখন পর্যন্ত এসএমই খাত থেকে ৮ হাজার ৫৫৩টি স্থানান্তর আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া কৃষি খাত থেকে ২ হাজার ৭০৫টি, শিল্প খাত থেকে ১ হাজার ৬৪২টি, প্রাণিসম্পদ খাত থেকে ১ হাজার ৩৯৩টি এবং মৎস্য খাত থেকে ১৪৭টি আবেদন জমা পড়েছে।
কুয়েতের জনশক্তি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদন গ্রহণ ও যাচাই কার্যক্রম এখনও চলমান এবং জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন জমা দেয়া যাবে। ফলে উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে শত শত আবেদন বিভিন্ন শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ করে মূল নিয়োগকর্তার অনুমোদন না থাকলে স্থানান্তর আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়োগকর্তার সম্মতি এই প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত। কুয়েতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফের নির্দেশনায় গৃহীত এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে নির্দিষ্ট খাতগুলোর শ্রমশক্তির ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং শ্রমবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি করা।
তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত আইন ও বিধিমালার আওতাতেই কার্যকর থাকবে। জনশক্তি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও শিল্প খাতের কর্মীরাই এ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। শ্রমবাজারে নমনীয়তা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতের জরুরি জনবল চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৭:১৮ ৫ বার পঠিত