![]()
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আজ পটিয়ার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আশা করছি, নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’
তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের অর্থায়নে স্টেডিয়াম নির্মিত হলেও এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয়দেরই নিতে হবে।
মাঠ বাঁচলে খেলাধুলা বাঁচবে, আর খেলাধুলা বাঁচলে যুবসমাজ মাদক ও প্রযুক্তিনির্ভর আসক্তি থেকে দূরে থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা যদি মাঠে থাকে, তাহলে তারা মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের অতিনির্ভরতা থেকে দূরে থাকবে।
মাদকমুক্ত ও সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করা হবে।’ তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করতে সরকারের বিশেষ কর্মসূচি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্ব আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল গঠন করে ১০টি ইভেন্টে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্ব আয়োজন করা হবে।
এর মাধ্যমে গ্রামগঞ্জের লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হবে।
পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্হার আয়োজনে বর্তমান সরকারের প্রথম সরকারি প্রতিমন্ত্রী সফরে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোরশেদ সোহেল, প্রকৌশলী সুকুমার সাহা, খোরশেদ আলম, মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, মঈনুল আলম ছোটন, শফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম সওদাগর, গাজী আবু তাহের, তৌহিদুল আলম, আবুল বশর সিআইপি ও নাজমুল হক রিপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশের খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকায় প্রায় ৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিতব্য এই মিনি স্টেডিয়াম দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত স্টেডিয়ামে থাকছে- আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ,
আধুনিক গ্যালারি, প্যাভিলিয়ন ভবন, খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুম, রেফারিদের চেঞ্জিং রুম, আধুনিক ওয়াশরুম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়। ভবিষ্যতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ২০১৬ সালে পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। একাধিক স্থান পরিদর্শনের পর ২০২৩ সালে খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকাকে চূড়ান্ত করা হয়। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অর্থ বরাদ্দ জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়, প্রথম সংশোধিত) এর আওতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
অপরদিকে পটিয়ার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ মনে করছেন, আধুনিক এই স্টেডিয়াম নির্মিত হলে শুধু স্থানীয় খেলোয়াড়রাই নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি এখান থেকে উঠে আসতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ তারকা ক্রীড়াবিদরাও। পটিয়ার বহুদিনের স্বপ্নের মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৪:৩৭ ১৫ বার পঠিত