
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ক্লুলেস (রহস্যজনক) হত্যা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে এ পরিদর্শন করেন।
নিহত তৌহিদুল ইসলাম গত ১ জুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, ওইদিন তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মাদক সেবন করেছিলেন বলে জানা যায়। নিখোঁজের দুই দিন পর ৩ জুন উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটপাড়া চরপাড়া গ্রামের লতিফ মোল্যার পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বোন শামসুন্নাহার বাদী হয়ে ৫ জুন বোয়ালমারী থানায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সন্দেহজনক ৬ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। আটককৃতরা হলো- ভাটপাড়া গ্রামের বসির মিনা (২২), আমিন মীর (৩০), নিশাত মিয়া (২১), আকবর মিয়া (২৯), মানোয়ার শেখ (২৮)। অপর আটককৃত আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামে সুমন খন্দকার (২৪)।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, পুলিশের মধুখালী সার্কেলের এএসপি আজম খান, বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
নিহতের বোন শামসুন্নাহার বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর কোনো বোনের ভাই যেন এভাবে হত্যার শিকার না হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়- সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় মাদকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৬:৪১ ৭ বার পঠিত