![]()
সদরপুর ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে স্বনামধন্য ‘মমিন হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট’-এ দেদারসে নকল (প্লাস্টিকের) ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ১৬ জুন সকালে উক্ত হোটেলে নাস্তা করতে আসা একাধিক গ্রাহকের প্লেটে এই নকল ডিম পরিলক্ষিত হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ১৬ জুন সকালে মমিন হোটেলে কয়েকজন গ্রাহক ডিম দিয়ে নাস্তা করার সময় ডিমের অস্বাভাবিক টেক্সচার ও গন্ধ পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ডিমটি পরীক্ষা করে দেখা যায় এটি সাধারণ হাঁস-মুরগির ডিম নয়, বরং ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি কৃত্রিম বা প্লাস্টিকের ডিম।
এই বিষয়ে হোটেলের কর্মরত কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে তালবাহানামূলক কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। পরবর্তীতে এই ডিম কোথায় থেকে এবং কার কাছ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে— তা জানতে চাইলে হোটেলের মূল কর্তৃপক্ষও সাংবাদিকদের কাছে তীব্র গরিমসি করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান।
স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী অপরাধ ও শাস্তির বিধান নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম বা ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রয় করা একটি মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ।
• নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী: মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম বা রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করলে বা জেনে-শুনে তা বিক্রয় করলে অপরাধীর অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে।
• ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী: খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ বা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য মিশ্রিত ডিম বা খাদ্য বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।
জনসচেতনতায় করণীয় ও আসল-নকল ডিম চেনার উপায়
প্লাস্টিকের ডিম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘ মেয়াদে লিভার, কিডনি নষ্ট এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে। তাই জনস্বার্থে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি:
• আগুনে পরীক্ষা: নকল ডিমের খোসা বা ভেতরের সাদা অংশ আগুনে ধরলে প্লাস্টিকের মতো গন্ধ বের হবে এবং তা পুড়তে শুরু করবে।
• কুসুমের অবস্থা: আসল ডিম ভাঙার পর কুসুম সহজে ছড়ায় না, কিন্তু প্লাস্টিকের ডিম ভাঙলে কুসুম ও সাদা অংশ দ্রুত মিশে যায়।
• ঝাঁকিয়ে দেখা: প্লাস্টিকের ডিম কানের কাছে নিয়ে ঝাঁকালে ভেতরে এক ধরণের তরল নড়াচড়ার শব্দ পাওয়া যায়, যা আসল ডিমে হয় না।
• সহজেই অবাধ্য খোসা: নকল ডিমের খোসা অনেক বেশি মসৃণ ও চকচকে হয় এবং সেদ্ধ করার পর খোসাটি প্লাস্টিকের মতো টানলে সহজে ছিঁড়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
একটি স্বনামধন্য হোটেলের মতো জায়গায় এমন জঘন্য প্রতারণা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই হোটেলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে এর পেছনের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৯:০৫ ৩৩ বার পঠিত