
প্রায় ১৪ মাস পর সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
এদিন সিটি এলাকার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ১৪৪টি স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (ইপিআই) কেন্দ্রসহ ৩৪০টি সেশনের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইন বাস্তাবায়ন করা হবে।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১ টায় নগর ভবনের স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মেলন কক্ষে নাসিক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ডা. নাফিয়া ইসলাম বলেন, “এবারের ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮১ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৫ হাজার ২৫৫ জন । ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ জন।”
তিনি বলেন, “২৮ জুন সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশ (নাসিক) এলাকায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১৪৪ টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র।”
ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান নাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম। তিনি বলেন, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।
ভিটামিন এ ক্যাপসুলের কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে নাসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কাছে পর্য়াপ্ত ভিটামিন এ ক্যাপসুল মজুদ রয়েছে। যতটুকু প্রয়োজন তার থেকে ১৫ শতাংশ বেশি পরিমাণ ক্যাপসুল মজুদ আছে। যদি সিটি এলাকার বাহিরের কোনো শিশু সেবা নিতে আসে তাদেরকেও ’এ’ প্লাস ক্যাপসুল দেয়া যাবে।”
এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, “৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।”
কুতুবুল আলম বলেন, “নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুল সংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে।”
বাংলাদেশ সময়: ০:০৭:৪৬ ৫ বার পঠিত