
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের হত্যাকারীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। শুক্রবার নিহত কেতন আগরওয়ালের পিতা পুনের বিশিষ্ট শিল্পপতি বিশাল আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে গেলে মুখ্যমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।
শুক্রবার পুনে সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানস্থলে কেতনের পিতাকে ডেকে নেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন। সাক্ষাৎকালে বিশাল আগরওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দুটি দাবি জানান। প্রথমত সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট উজ্জ্বল নিকমকে যেন এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত এ মামলার বিচারের জন্য যেন একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী দুটি দাবির ব্যাপারেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
মূখ্যমন্ত্রীর কাযালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে সাক্ষাতের ব্যাপারে লেখা হয়, ‘কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল আজ পুনেতে দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে দেখা করেন এবং ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী পরিবারটিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে এই মামলার দোষীরা যেন কঠোরতম শাস্তি পায়।
মুখ্যমন্ত্রী আরো যোগ করেন, তাদের ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখা হবে না।’ মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় এক্স-এর পোস্টে আরও জানানো হয়, ‘একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং উজ্জ্বল নিকমকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের পরিবারের দাবিও তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বল নিকমও এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সম্মতি দিয়েছেন। ফড়নবিস আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।’
মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলা মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশজুড়ে পরিচিতি পান উজ্জ্বল নিকম।
এছাড়া বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার শুনানীতেও নেতৃত্ব দেন সিনিয়র এই আইনজীবী।
কেতনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেন, ’এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। সমাজ হিসেবে আমাদের আত্মোপলব্ধি করা দরকার যে কেন ভালো পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন প্রতিহিংসামূলক ও বিকৃত মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ’এটি কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা, যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ’তরুণ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যাতে এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক প্রবণতা এবং বিকৃত চিন্তাভাবনা গড়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করার জন্য সমাজকে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, গুরুতর এবং সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।’
গত ফেব্রুয়ারিতে পুনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়েলের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে তাদের জমকালো বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এরইমধ্যে গত ১৮ জুন সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী লোহাগড় দূগ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৭:৩৮ ৯ বার পঠিত