শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬



জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। মেকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে তারা গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছেন। এটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। শনিবার বিকালে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ভাঙ্গার পরে পুরো রাস্তা ভাঙা, অথচ এই সড়ক ধরে রাজধানী থেকে বরিশাল বিভাগীয় শহর তথা সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা পর্যন্ত যায় মানুষ। ভাঙ্গার পরে সড়ক যেমন দুই লেন সরু তেমনি সড়কজুড়ে দেখলাম সমুদ্রের ঢেউ। এই সড়ক ৬ লেন করতে হবে। ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ করে দিতে হবে। রেললাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আবার গর্জে উঠব, অধিকার আদায় করেই ছাড়ব। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নচেৎ ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। বরিশালের উন্নয়নে জাতীয় সংসদে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরায় প্রধান অতিথি ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রতি বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। তিনি গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে ভোট চেয়েছেন আর এখন উলটে গেছেন। ৫ আগস্টের পর তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে চলে গেছেন। এখন তারা ৩১ দফার কথা বলেন না, তারা সংস্কারের কথা অস্বীকার করে এখন সংশোধনের কথা বলছেন। ৩১ দফার প্রথম দফাই ছিল সংস্কার, আর এখন তারা বলছেন উলটো কথা।’ নাহিদ বলেন, সাধারণ মানুষের কোনো কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়নি, বরং দলীয় কর্মীদের চাঁদাবাজি নিশ্চিত হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা শেখ হাসিনার বিচারসহ সুশাসন নিশ্চিত করব।

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগের ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেব না। আমরা চাই এদেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি বন্ধ হোক। কিন্তু বিএনপি এসব শুনছে না। তারা আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেয়নি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগের গুন্ডারা বিএনপির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরার পাঁয়তারা করছে। এই অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম। ৫ আগস্টের পর তারা চাঁদাবাজিতে নতুনত্ব এনেছে, আর ক্ষমতায় যাওয়ার পর গুম কমিশনকেই গুম করে ফেলেছে। বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই সব অপকর্ম করে যাচ্ছে।

আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবেদীন, বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার, বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, এনসিপির বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, সদস্য সচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, মহানগর আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব এম আনোয়ার হোসেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩১:১২   ৭ বার পঠিত