
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একের পর এক ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলার শিকার হয়ে একটি অসহায় পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরিষাবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আরামনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুস সাত্তারের পরিবারের ওপর এই মামলাবাজির অভিযোগ উঠেছে আপন ফুফু আছিয়া বেগম ও তার মেয়ে সুরাইয়া আক্তার আলমিনার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলায় বাদীর যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়িই নেই। এমনকি মামলার সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা স্থানীয় বাসিন্দা নন; বরং অনেকের বাড়ি জামালপুর সদরে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আরামনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজী সাহেবুল্লাহ সরকারের ছেলে আব্দুল হাই সরকারের স্ত্রী হামেতন বেওয়াকে তার শ্বশুর ভোরারবাড়ী মৌজার বিভিন্ন দাগের কাতে ২ একর ২২ শতাংশ জমি ‘হেবা বিল এওয়াজ’ মূলে লিখে দেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে হামেতন বেওয়া (আরএস) রেকর্ড মূলে ভোরারবাড়ী মৌজার খতিয়ান নং- ৫২৩ এর ১১৬৩ ও ১১৬৪ দাগ থেকে মোট ৯৬.৮৭ শতাংশ এবং খতিয়ান নং-১৭২ হতে ১১৫০ দাগ থেকে ১৬.৮৫ শতাংশ (সর্বমোট ১ একর ১৩ শতাংশ) জমি তার তিন ছেলে—আবুল কালাম আজাদ, আব্দুস সাত্তার ও আব্দুল গনির নামে ‘হেবা বিল এওয়াজ’ করে দেন।
এরপর ২০০৮ সালে হামেতন বেওয়া তার ছোট মেয়ে আছিয়া বেগমকে আবারও একই মৌজার,একই খতিয়ানের ১১৬৪ নং দাগে দক্ষিণ পূর্বের অংশে নির্দিষ্ট চৌহদ্দি করে সোয়া ২ শতাংশ জমি লিখে দেন। কিন্তু আছিয়া বেগম, দীর্ঘ ৮ বছর পর তার চৌহদ্দি করা অংশ বাদ দিয়ে তার সহোদর ভাই আব্দুস সাত্তারের দখলকৃত জমির উত্তরের পশ্চিমাংশে নতুন আরেকটি চৌহদ্দি অঙ্কিত দেখিয়ে দখলের চেষ্টা করেন।
এসময় বাধা দেয় আব্দুস সাত্তারের মেয়ে শাহনাজ বেগম ও তার পরিবার। তারা জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত পৈত্রিক সূত্রে পেয়ে ওই জমিতে তারা ঘরদোর তুলে দখল করে রেখেছেন।
আছিয়া বেগম জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে তার ভাতিজি শাহনাজ বেগমের বিরুদ্ধে একই দিনে দুটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে দুটি মামলাই খারিজ করে দেন। পরে উচ্চ আদালতে আছিয়া বেগম রিভিশন করলেও বিজ্ঞ আদালত সেটিও খারিজ করে দেন।
পরবর্তীতে আছিয়া বেগম আর কোন কূলকিনারা খুঁজে না পেয়ে, দীর্ঘ ৬ বছর পর পুনরায় তার মেয়ে সুরাইয়া আক্তার ওরফে আলমিনাকে দিয়ে শাহনাজ বেগমের প্রবাসী ফেরত স্বামী জব্বার আলীকে প্রধান আসামি করে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করেন। যে মামলার আসামি হয়ে ধারে ধারে ঘুরছেন জব্বার আলী।
ভুক্তভোগী জব্বার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। আজ দেশে ফিরে এসেছি শুধুমাত্র তাদের মিথ্যা মামলা-হামলার কারণে। এতোদিন তারা আমার পরিবারের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে, এখন আমার বিরুদ্ধে করছে। আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট।
বাদী মামলায় যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, সেখানে তার কোনো অস্তিত্ব বা বসতবাড়ি নেই। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি।”
স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সাত্তার তার মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ ঘরদোর তুলে রেখেছেন এবং একসময় তারা ওই জায়গায় ঘরদোর তুলে ভাড়া দিতেন। তার মৃত্যুর পর সন্তানরা তা দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু আব্দুস সাত্তারের বোন আছিয়া বেগম বহিরাগত লোকজন এনে প্রায়ই জোরপূর্বক ওই জমি দখলের চেষ্টা করতেন। যার ধরুন আব্দুস সাত্তারের পরিবার ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দিয়ে জমিটি ঘরসহ নিজেদের দখলে রেখেছেন আজ দীর্ঘদিন যাবত। যার প্রমাণ হিসেবে এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঘরটি। অভিযোগ রয়েছে, বিবাদের হুমকিতে আজও তারা ঘরটি সংস্কার করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং “তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০২:৩৪ ৭৭ বার পঠিত