সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছে ইরান, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছে ইরান, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬



মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছে ইরান, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত

যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালালে তা মোকাবিলায় ইরানের নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এমন লোক রয়েছেন, যারা সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য মিনিট গুনছেন এবং মার্কিন সেনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঘায়ি আরও বলেন, ‘খার্গ দ্বীপ দখলের মতো যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানি মুখপাত্র বলেন, তেহরান যুদ্ধ ও কূটনীতি—উভয়কেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচনা করে।

তার ভাষায়, ‘আমি যুদ্ধ অথবা কূটনীতির এই দ্বৈত ধারণা প্রত্যাখ্যান করছি। কূটনীতি আমাদের জাতীয় স্বার্থ অর্জনের একটি মাধ্যম, যেমন যুদ্ধও একটি মাধ্যম।’

বাঘায়ি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের পাঠ্য নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে ১৪টি ধারা রয়েছে। শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের। এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে পরামর্শ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির ভাষা পুরোপুরি স্পষ্ট। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এ চুক্তি ভঙ্গ করার কোনো অজুহাত নেই।’

ইরানি মুখপাত্র জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছি। বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী আমাদের কাছে কিছু প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন।’

সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন বাঘায়ি। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তেহরানের কোনো বৈরিতা নেই। তবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাঘায়ি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তবে আমরা আশা করি, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবে না। যতদিন এ ধরনের হামলা চলবে, ততদিন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও জবাব দিতে থাকবে।’

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৪:৩৮   ১৪ বার পঠিত