
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী না থাকলে গণতন্ত্র বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট: সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সরকারের প্রতিটি কাজের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘লং মার্চ’সহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখলে রাখার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও রক্তদানের ধারাবাহিকতায় যে অর্জন এসেছে, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে এবং স্বাধীনতার পরেও দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। ১৭ বছর ধরে চলা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেখানে বিরোধী দল যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, সরকারকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। সরকারের প্রতিটি কাজের সমালোচনা করা হলে সরকার নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি বুঝতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এটিই গণতান্ত্রিক সরকার ও গণতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই সংকট তৈরি করেনি। বর্তমান সংকট মূলত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহের ওপর।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার অতীতের ব্যর্থতার কথা বলে চুপ করে বসে নেই। বরং এ বিষয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বাজেটের বাইরে বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ও নিকটবর্তী দেশ মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং তা মেরামত করতে সময় লাগছে। একদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধ, অন্যদিকে দেশের গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ খাতে যে কর্মকাণ্ড হয়েছে, তার অনেক কিছুই জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও কেন্দ্রগুলোকে ভাড়া দিতে হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ চলে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণে সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারের যা করার তা সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। এর বাইরে জনগণকেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন উপায় অনুসরণ করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩০:১২ ৩ বার পঠিত