
ঢাকা: সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহৃত বিদ্যমান রেট শিডিউল পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়াকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এ বিষয়ে আইএমইডি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নতুন নীতিমালার খসড়াও প্রস্তুত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা হবে।
জোনায়েদ সাকি জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার পৃথক রেট শিডিউল ব্যবহারের কারণে ব্যয় নির্ধারণে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। শিগগিরই তারা নতুন রেট শিডিউলের সুপারিশ দেবে। নতুন কাঠামোয় সাধারণ কাজের জন্য অভিন্ন হার এবং বিশেষায়িত কাজের জন্য পৃথক হার নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন রেট শিডিউল কার্যকর হলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নও আরও কার্যকর হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে একটি প্রকল্প ধারণাপত্র থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি প্রণয়ন, একনেকের অনুমোদন, প্রশাসনিক আদেশ, দরপত্র এবং কার্যাদেশ সম্পন্ন হতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হতেও তিন থেকে চার বছর লেগে যায়। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে এডিপি বাস্তবায়ন ধীরগতির হয় এবং প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল অর্জন ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৯:১৮ ৪ বার পঠিত