
স্বর্ণ খাতকে একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় এনে একে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও নীতিগত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী নীতিগত সহায়তার ফলে স্বর্ণ খাত আজ ফরম্যালাইজড ও শৃঙ্খলবদ্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। ভ্যাট, টার্নওভার ট্যাক্স এবং উৎস কর হ্রাসের মতো ব্যবসাবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সরকার এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে যশোরের হোটেল ওরিয়নে খুলনা বিভাগীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাজুস সভাপতি এসব কথা বলেন।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জুয়েলার্স সমিতির ৩৭টি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এই সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় বাজুস সভাপতি জানান, বৈধ উপায়ে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশীয় স্বর্ণ খাত এখন রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জুয়েলারি রপ্তানির তালিকায় একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের যেসব সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করেছে, ব্যবসায়ীরা তা শতভাগ কাজে লাগাতে চান।
খুব শিগগিরই স্বর্ণ আমদানিতে আরও সহজীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সকল লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। এর ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে স্বর্ণের বাজার সফলভাবে বিদেশের মাটিতে প্রসারিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত বিষয়ে বাজুস সভাপতি বলেন, যে পণ্য স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনেরা ব্যবহার করে, সেই পণ্য কখনই স্মাগলিং হতে পারে না। এ দেশের কিছু অসাধু ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিদেশি সিন্ডিকেটের চক্রান্তের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ব্যবসা বৈধতা অর্জন করতে পারেনি।
যশোর জেলা বাজুসের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাজুসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আজাদ আহমেদ, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমীর ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীনসহ খুলনা বিভাগীয় কমিটির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫২:৪৭ ৫ বার পঠিত