![]()
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলা খেলাঘরের উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ৩টায় জেলা খেলাঘর কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা খেলাঘরের সভাপতি আলতাফ হোসেন। সঞ্চালনা করেন শিশু শিল্পী অনুশ্রী বিশ্বাস, পার্কি, প্রিয়ন্তী দেব ও পায়েল মালো।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পার্কি বলেন, খেলাঘর শিশু-কিশোরদের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনায় গড়ে তোলার একটি আন্দোলন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তের সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে পায়েল মালো কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। অনুশ্রী বিশ্বাস সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তাঁর সংগ্রামী চেতনা, ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শোষিত মানুষের পক্ষে অবস্থানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। প্রিয়ন্তী দেব, পার্কি ও রাইসা আমিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, কর্ম ও মানবতাবাদী দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে বলেন, সুস্থ শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে রবীন্দ্রচর্চা অপরিহার্য।
এ সময় জেলা খেলাঘরের শিশু শিল্পীরা দলীয় সংগীত, একক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। এতে অংশ নেন রাইসা আমিন, অনুশ্রী বিশ্বাস, রাইসা ইসলাম, সায়ন্তিকা সৃষ্টি, সাদিয়া ইসলাম, পায়েল মালো, পার্কি, শাহারিয়ার সাদী, আবু জারিফ, রাইয়ান, পরশা, পল্লবীসহ আরও অনেকে।
খেলাঘর সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক সহকারী অধ্যাপক নূর আব্দুল্লাহ সাঈদ বলেন, রবীন্দ্রনাথ মুক্তচিন্তার, নজরুল বিদ্রোহ ও সাম্যের এবং সুকান্ত শোষিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িকতা, বিভাজন, কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করতে হবে। নতুন প্রজন্মের হাতে বই, গান, কবিতা ও সংস্কৃতির শক্তি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা খেলাঘরের সহ-সভাপতি উত্তম দত্ত, রুবিয়া মিল্লাত, অ্যাডভোকেট প্রীতিকণা রাহা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গীতা সাহা, সুরাজ সরকার পঙ্কজ, বিলকিস বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নূরুদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেনসহ খেলাঘরের নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা।
সভাপতির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, প্রগতিশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৬:২২ ৫ বার পঠিত