
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের উলামায়ে কেরাম, ইমাম-খতিব ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। এই ভূমিকা ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বীনি শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব এবং দ্বীনি শিক্ষার্থীরাও বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ভূমিকা, অবদান, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা জরুরি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের মানুষ নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও অনিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করেছে মন্তব্য করে ধর্মসচিব বলেন, অনেক মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ বোধ করেনি। মতপ্রকাশ, কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ নতুনভাবে তার বাক্স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মানুষ ইচ্ছেমতো সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাধীনভাবে কথা বলা ও মত প্রকাশের অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার।

তিনি আরো বলেন, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনা বা আন্দোলনের ইতিহাস যেন পরবর্তীকালে বিকৃত না হয়, সেজন্য প্রত্যক্ষদর্শী, অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, দলিলপত্র এবং প্রামাণ্য তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ক্ষেত্রেও একইভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার মতো ভুয়া জুলাই যোদ্ধার আবির্ভাবও দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রকৃত অবদানকারীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে সঠিক তথ্য যাচাই ও প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
ধর্মসচিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রামাণ্য প্রকাশনা তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হাফেজ মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাকী নদভী বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ইমাম, খতিব, মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তাদের ভূমিকা নথিভুক্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা কাজী মোহাম্মদ সেলিম রেজা।
আলোচনায় অংশ নেন সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের আমীর মুফতী আবু আজহারুল ইসলাম, মহাসচিব মুফতী শরীফ উল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম. এ. বারী প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রূহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৬:২৯ ৩ বার পঠিত