
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। টানা দুই বছর শতভাগ ফেলের লজ্জাজনক রেকর্ড এবং শিক্ষার্থী আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণী কক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। ফলাফলে তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়। এর আগের বছরও ১০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছিল। অর্থাৎ, টানা দুই বছর ধরে বিদ্যালয়টির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৯৭ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৪৭ জন। শ্রেণীভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা— ষষ্ঠ শ্রেণীতে ৬ জন, সপ্তম শ্রেণীতে ৫ জন,অষ্টম শ্রেণীতে ৯ জন,নবম শ্রেণীতে ৯ জন,দশম শ্রেণীতে ১৮ জন।
বিদ্যালয়ে মোট ৮টি এমপিওভুক্ত শিক্ষকপদের বিপরীতে ৫ জন শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে। এছাড়া কর্মচারী পদে রয়েছেন ৫ জন। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরপর দুই বছর শতভাগ ফেলের কারণ জানতে চাইলে শিক্ষকরা তীব্র শিক্ষক স্বল্পতাকেই প্রধান দায়ী করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিতি, মেধাবী শিক্ষার্থীর অভাব এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (NTRCA) মাধ্যমে এই এলাকায় নতুন শিক্ষক না আসতে চাওয়াকে ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ পারভীন বলেন, “প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না আসায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, “আজ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার মধ্যে মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শতভাগ ফেল করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক স্বল্পতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় এই ফলাফল এসেছে। এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে এখানে শিক্ষক নিয়োগ দিলেও কেউ আসতে চায় না। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব যেন আগামীতে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারে।”
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩২:৩৮ ৫ বার পঠিত