শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬



সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে বলেও জানান তিনি।

সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে আজ ঢামেক হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রীদ্বয় চিকিৎসকদের কাছ থেকে ডা. আসাদুর রহমানের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। দ্রুত সুস্থতা কামনা ও তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারা দেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেন। ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায়-যারা এরকম চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে (আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না) অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে না নিতে পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ও তাদের তৎপরতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তার চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র তার ওপর হামলা চালায় এবং গুরুতর আহত করে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মন্ত্রী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রশংসা করেন।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালীন হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা প্রেরণ এবং পরবর্তীতে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেবল চাঁদাবাজ বা অপরাধীদের তালিকাই তৈরি করছি না। এসব চাঁদাবাজির সাথে যদি পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকে বা সহায়তা করে, তবে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার ও ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্ট গান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

মন্ত্রী পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০০:৩৯   ৬ বার পঠিত