![]()
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গভীর রাতে বন বিভাগের রোপণ করা সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে একের পর এক গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সরেজমিনে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া-বিদ্যাধর সড়কের দুই পাশে বন বিভাগের উদ্যোগে দীর্ঘদিন আগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে আকাশমনি, শিশু ও মেহগনি। দীর্ঘদিন পরিচর্যার পর গাছগুলো বড় হয়ে ওঠার পর বেশ কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে কে বা কারা সেগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে সড়কের দুই পাশে থাকা গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। সকালে বিভিন্ন স্থানে গাছের কাটা গোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। সরকারি সম্পদ এভাবে কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের কাটা গোড়া দেখতে পান। বিদ্যাধর গ্রামের মো. রিয়াজ গাজী ও সৈয়দ বাবু আলীর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতে মামলা করা হবে।
অভিযুক্ত মো. রিয়াজ গাজী (২৬) আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিদ্যাধর গ্রামের হাসান গাজীর ছেলে। অপর অভিযুক্ত সৈয়দ বাবু আলী (৩২) একই গ্রামের মৃত সৈয়দ ওমর আলীর ছেলে।
অভিযুক্ত মো. রিয়াজ গাজী ও সৈয়দ বাবু আলীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ কষ্ট করে সড়কের পাশে সরকারি গাছ রোপণ করেছে। যারা রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি গাছ কাটা বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাতের বেলায় সড়কটিতে টহল জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে থাকা অবশিষ্ট আকাশমনি, শিশু ও মেহগনি গাছ রক্ষায় বন বিভাগের কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৪০:০৩ ২৭ বার পঠিত