
মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃকৃষকরা এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে সারি সারি পাট জাগ দেয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। ভালো ফলনে গ্রামীণ জনপদে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লেও কৃষকদের মূল প্রত্যাশা এখন বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়া।
উপজেলার মধুখালি পৌরসদর, কামারখালী, কমালদিয়া, ডুমাইন, বাগাট, মেগচামী, রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পাট সংগ্রহ করছেন। পরিবারের সদস্যরাও এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের একাধিক সদস্য পাটের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কেও পাটের আশ ছরাচ্ছেন, কেও পাটকাঠি রোদে দিচ্ছেন কেও আবার পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুখাতে দিচ্ছেন। মাঠ থেকে পাট কেটে জলাশয়ে জাগ দেয়া, পরে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর কাজে এখন গ্রামীণ জনপদে কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের আবাদ ও কৃষকদের আগ্রহ আবারো বাড়ছে।
কামালদিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামর কৃষক সংগ্রাম জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় তারা লাভের আশা করছেন। তবে সেই আশার সঙ্গে রয়েছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে যদি পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আগামী বছর আরো বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।
কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, পাট চাষে সরকারি প্রণোদনা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মধুখালীতে পাট চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সোনালি আঁশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব ইলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে মধুখালীর ১১ টি ইউনিয়নে মোট ৮হাজার ৬শ ৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর। লক্ষমাত্রা পূরন হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৩:৪০ ২ বার পঠিত