মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত সংসদ-সদস্যদের সাথে আইপিইউ এর মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত সংসদ-সদস্যদের সাথে আইপিইউ এর মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬



রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত সংসদ-সদস্যদের সাথে আইপিইউ এর মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকান্ডের মাধ্যমে এদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার অমানবিক শাসনের ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির শিকার হয়নি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় গুম ও নিপীড়নের আবহ তৈরি করা হয়।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি’র সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি ও চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এমপি অংশগ্রহণ করেন।

সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তাঁর ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ গুমের মর্মস্পর্শী বিবরণ তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। এসময় “নিপীড়ন থেকে বিপ্লব: রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন” ডুকমেণ্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বিগত শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক গুম ও দমন-পীড়নের চরম বহিঃপ্রকাশকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান আয়নাঘরে বন্দিজীবনের তাঁর জীবনের নির্মম গুম ও নিপীড়নের অধ্যায়কে তুলে ধরেন। সংসদ-সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাঁকে দীর্ঘ ৭ মাস সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরে আটকে রেখে চরম অমানবিক ও পদ্ধতিগত গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন।

সংসদ-সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁর স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি প্রথম পরিচিতি পায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। তিনি এসময় বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকান্ডের বিচারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় আমন্ত্রিত সংসদ-সদস্যগণ প্রত্যেকে তাদের বক্তৃতায় রাজনৈতিক দীর্ঘ নিপীড়ন ও তদানীন্তন মাফিয়া সরকারের গুম ও ভয়ের সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে এসব সংঘটিত হত্যাকান্ড, গুম ও বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের প্রতি নিপীড়ন অমানবিক ও জঘন্য। তিনি বলেন, তার নিজ দেশ রোমানিয়ায় চউশেস্কুর নির্মম দমন নীতির সাথে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার প্রধানের শাসনামলের মধ্যে মিল লক্ষ্যণীয়।

এসময় তিনি সফর শেষে আইপিইউ এর গভর্নিং বডির নিকট বাংলাদেশে সংঘটিত স্বৈরাচারী শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান করবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৪:৪২   ৪ বার পঠিত