মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬



চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান

জাপানের ব্যবসা ও বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। জাপানি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কম্পানিও ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে।
ব্যাংকিং, খুচরা ব্যবসা, গাড়ি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির মতো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গত সপ্তাহে জাপান সফর করেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল। সফরে তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতকে জাপানের ব্যবসায়ীদের কাছে এখন বড় সম্ভাবনার বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার কমে যাওয়াও দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা বাড়াতে উৎসাহিত করছে।

ভারতের বড় শহরগুলোর বাজারে জাপানি পণ্যের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। মুম্বাই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর বড় বিপণিবিতান এবং প্রধান সড়কে জাপানি ব্র্যান্ডের দোকান দেখা যাচ্ছে। পোশাকের ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ও মুজি এবং ক্রীড়া জুতার ব্র্যান্ড ওনিতসুকা টাইগার এরই মধ্যে ভারতে ব্যবসা করছে।
এসব প্রতিষ্ঠান এখন দেশটিতে তাদের ব্যবসা আরো বাড়াচ্ছে। শুধু বড় ব্র্যান্ড নয়, জাপানের ছোট ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও ভারতের বাজারে ঢুকছে।

জাপানের আসবাবপত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিতোরি সম্প্রতি ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে। জাপানের জনপ্রিয় সুবিধাজনক পণ্যের দোকানের চেইন লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লসন ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।
মুম্বাই থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতে জাপানের আগ্রহ শুধু খুচরা ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশটির ব্যাংকগুলোও ভারতের আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করছে। বিদেশি কিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান যখন ভারতের ব্যাংকিং খাত থেকে বিনিয়োগ কমাচ্ছে, তখন জাপানের বড় ব্যাংকগুলো ভারতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে প্রতিযোগিতা করছে।

আরো পড়ুন
বরফ গলার ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে উত্তর কোরিয়া?

বরফ গলার ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে উত্তর কোরিয়া?

জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি ব্যাংক গত বছর ভারতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এই চুক্তির মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতের আর্থিক খাতে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। একই বছর জাপানের সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী হয়। ব্যাংকটির হাতে ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ভারতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি শুধু পণ্য বিক্রি বা ব্যাংকিংয়েই সীমিত নয়। গবেষণা, প্রযুক্তি ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাজও এখন ভারত থেকে পরিচালনা করছে অনেক জাপানি প্রতিষ্ঠান। ডেলয়েটের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ১০০টির বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এসব কেন্দ্র সাধারণত গবেষণা ও উন্নয়ন, ব্যবসার কৌশল, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্রের খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে।

জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে ব্যবসা বাড়ানোর একটি বড় কারণ দেশটির নিজস্ব বাজার। সুজুকি মোটর করপোরেশনের সহায়তায় পরিচালিত বিনিয়োগ তহবিল নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা বিপুল নাথ জিন্দাল বিবিসিকে বলেন, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের দিকে তাকাচ্ছে। তার মতে, জাপানের জনসংখ্যা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কমছে। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদাই কমছে না, দেশটির বাজারের আকারও ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা বাড়াতে বিদেশি বাজারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সুজুকি মোটর করপোরেশন ভারতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে ব্যবসা করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। জিন্দালের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে জাপানের বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও এখন আগের তুলনায় বেশি কঠিন। শুল্ক এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতা সেখানে ব্যবসার জন্য চাপ তৈরি করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু এসব দেশের বাজার ভারতের তুলনায় ছোট।

এই পরিস্থিতিতে বড় জনসংখ্যা ও দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির কারণে ভারত জাপানি কম্পানিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে। ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন নয়। প্রায় দেড় দশক আগে দুই দেশ বাণিজ্য উদারীকরণ নিয়ে একটি চুক্তি করে। এরপর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করা হয়। এরপর দুই দেশের সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প শুরু হয়। এর মধ্যে অন্যতম মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প। এই ট্রেনে জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এবার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে সরকারি নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে দিল্লিতে ভারত ও জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম সরকারি দিল্লি সফরের সময় এই সম্মেলন হয়। সম্মেলনে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং অন্যান্য খাতে এসব বিনিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জাপান তা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করতে পারে।

ভারতে শুধু জাপানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়েনি। ছোট ও মাঝারি কম্পানিগুলোও নতুন বাজার খুঁজছে। জাপানের হামামাতসু শহর এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই শহরের সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন খাতের ছোট ও মাঝারি কোম্পানির সংখ্যাও এখানে বেশি। ভারতের বাজারে এসব কোম্পানির প্রবেশ সহজ করতে সম্প্রতি হামামাতসু শহর ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’ গঠন করেছে। এই কমিটির লক্ষ্য হলো শহরের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ভারতে ব্যবসা বাড়াতে পারে, তা খুঁজে বের করা।

ভারতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে চীন ছেড়ে ভারতে চলে আসছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তোশিরো নিশিজায়েওয়া লিখেছেন, এর পেছনে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল কাজ করছে। অর্থাৎ নতুন বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে ব্যবসার ঝুঁকি কমাতে। সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ভারতবিষয়ক চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাই বলেন, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি কমাতে চাইছে। তার মতে, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ভারত একটি বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং ভারতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও একে অপরের সঙ্গে মিলছে।

জাপানে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমেনি। বরং দুই দেশের সহযোগিতা আরো বেড়েছে। পান্ডালাই বলেন, জাপানে নতুন সরকার এলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লক্ষ্য কমেনি, বরং বেড়েছে। তার মতে, এর অর্থ হলো ভারত-জাপান সম্পর্ক এখন শুধু দুই দেশের নেতাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মহল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যেও এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চাপের মধ্যে জাপানের নতুন বিনিয়োগ দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের জন্য জাপানের মতো দেশের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, ভারত ও জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির মতো খাতে চীনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সহজ হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কর নিয়ে অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয় রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীরাও এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পও এর একটি উদাহরণ। সম্প্রতি জাপানের সাবেক এক মন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বারবার নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে। ভারত সরকার অবশ্য ওই অভিযোগ দ্রুত প্রত্যাখ্যান করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এই বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে। ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যার উদাহরণ হিসেবে তারা ঘটনাটি ব্যবহার করে।

ভারত ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ছে। কিন্তু এই গতি ধরে রাখতে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতকে চীনের বিকল্প বাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছে। জাপানের নিজস্ব বাজার সংকুচিত হওয়া, চীনে ব্যবসার ঝুঁকি বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা- সব মিলিয়ে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে জাপানের এই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে ভারতে ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ করতে হবে। করব্যবস্থা, আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জমি ও পরিবেশের অনুমোদন এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির মতো সমস্যাগুলো কমাতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:৩২   ৫ বার পঠিত