
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে চালু করা হচ্ছে বিশেষ ‘নামাজ ট্র্যাকিং’ কার্যক্রম। এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার অর্থও তিনি দিচ্ছেন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশে সম্প্রতি এ কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় প্রতিদিনের প্রথম ধর্মীয় ক্লাসে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা সহকারী মৌলভী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগের দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য একটি নির্ধারিত রেজিস্টারে নিয়মিত লিপিবদ্ধ করা হবে। মাস শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেবে।
শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে আগ্রহী করে তুলতে কেবল পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না এ কার্যক্রম। মাস শেষে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ও সর্বোচ্চসংখ্যক ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। এ পুরস্কারের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ ব্যবহার না করে শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক নিজে ব্যক্তিগতভাবে অর্থায়ন করছেন।
নোটিশে নামাজের ধর্মীয় গুরুত্ব ও হাদিসের আলোকে কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নামাজ আদায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, “শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নামাজ মানুষের জীবনে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আত্মসংযম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাউকে জোর করে নয়, বরং উৎসাহ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নামাজে অভ্যস্ত করে তুলতে চাই।”
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৩:৫৯ ১ বার পঠিত