![]()
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও হামলা-মামলাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দুই পক্ষ। এক পক্ষ পৈতৃক ভিটায় বসবাসের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ এ কর্মসূচিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় মৎস্যজীবী শফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সাদ্দাম হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক গংদের বিরুদ্ধে হামলা, বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং মারধরের অভিযোগ তোলা হয়। শফিকুল ইসলামের দাবি, মামলা করার পর আসামিরা জামিনে এসে তাঁদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ, এলাকা ছাড়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেছেন বিবাদী সাদ্দাম হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক গং। তাঁরা জানান, ঘটনার সত্যতা বিকৃত করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিবাদী পক্ষ দাবি করে, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা শফিকুল ইসলামের লোকজনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপিয়েছে, যাতে প্রশাসনিকভাবে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া যায়। সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমরা আদালতের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে জামিন পেয়েছি। জামিনে এসে কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি। মিথ্যা মানববন্ধন করে প্রশাসন ও সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এদিকে, মানববন্ধনের ব্যানার ও অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যানারে ‘এলাকাবাসী’ লেখা থাকলেও কর্মসূচিতে মূলত একটি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতি দেখা গেছে, এতে বৃহত্তর এলাকাবাসীর কোনো স্পষ্ট প্রতিনিধিত্ব ছিল না। স্থানীয়দের মতে, অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
সার্বিক বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্বেই মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। জামিনে আসা আসামিরা পুনরায় হুমকি দিলে বাদী পক্ষ আইন অনুযায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করতে পারেন। আদালত নির্দেশ দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তবে এখন পর্যন্ত আদালত থেকে এমন কোনো লিখিত নির্দেশনা থানায় আসেনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৪:১৮ ৫ বার পঠিত