
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিজয়ের পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেই পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার জোট রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র একটি সুনির্দিষ্ট রূপ নিচ্ছে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত উল্লেখ করে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৭ বছরের ময়লা-জঞ্জাল ও অরাজকতার পর দেশকে একটি উজ্জ্বল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সচল রাখা এবং জনগণের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কথা বলার অধিকার, বাক্-স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের অধিকার। এই অঙ্গীকার নিয়েই তারেক রহমান সরকার পরিচালনা করছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল সকাল-সন্ধ্যা সরকারের সমালোচনা করছে। শুধু সমালোচনা নয়, সংসদের বাইরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দলের কোনো নেতা এখন পর্যন্ত কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হননি।
তিনি বলেন, এটিই ১৭ বছরের সংগ্রামের অঙ্গীকার। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র নিশ্চিত করার যে সংগ্রাম, তারই ধারাবাহিকতায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার রয়েছে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যোগ না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে। এটি তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, বরং বাংলাদেশের পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শক্তি প্রদর্শন বলে তিনি দাবি করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের হত্যার চক্রান্ত করা হচ্ছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হলেও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভেতরে ভেতরে চক্রান্তের জাল তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংকট সরকারের নীতি বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে সৃষ্টি হয়নি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ এলএনজি, জ্বালানি ও ডিজেল আমদানি করতে পারছে না। ফলে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
রিজভী বলেন, সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় দিন-রাত কাজ করে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও কাতার থেকে দ্রুত গ্যাস এনে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে রান্নাঘরের চুলা জ্বালানো এবং কলকারখানা সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ কেউ আবার দেশকে ১৯৭১ সালের পূর্ববর্তী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি ডাকসু ও কয়েকটি জায়গায় যে নিদর্শন দেখা গেছে, তা নিয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে গেলে ১৯৭১ সালের ৩০ লাখ শহীদের প্রতি অপমান করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে কোনো পক্ষ যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যা মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্মের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:০৫:৪২ ২২ বার পঠিত