![]()
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন। এত বড় জনগোষ্ঠীর তুলনায় পুলিশের সদস্যসংখ্যার অনুপাতকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এপিবিএন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্প এলাকায় আরও জনবল দেওয়ার পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।
মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘১৮ লাখ লোকের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ২২শ লোক। এই রেশিওটা অনেক বেশি। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্প এলাকায় আরও জনবল দেওয়ার পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের প্রধান নজর কোন অপরাধে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করছে এপিবিএন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সূত্রপাত হয়েছে। দূর-দূরান্তে গিয়ে এসব অপরাধের তদন্ত জেলা পুলিশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের সেখানে তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।
নতুন আইনে এপিবিএনের তদন্ত পরিচালনার সুযোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সব মামলার তদন্ত করবে না এপিবিএন। সরকার, আদালত বা আইজিপির মাধ্যমে যেসব মামলা এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করা হবে, শুধু সেসব মামলার তদন্ত করা হবে।
মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিক ও বাস্তবতার কারণে যেসব অপরাধের তদন্তে জেলা পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এপিবিএন তদন্ত করতে পারবে।
নতুন আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠনের সুযোগ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের ভূমিকার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এপিবিএনের দায়িত্ব মূলত ক্যাম্পের ভেতরের নিরাপত্তা। সমুদ্রসীমা ও সীমান্তে দায়িত্ব পালন করে কোস্টগার্ড, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাহিনী।
এপিবিএনের ডিআইজি বলেন, ‘আমাদের এরিয়া কোনটা? আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের কাজটা করি। আর সমুদ্রের কাজটা করে কোস্টগার্ড বা সীমান্তের দায়িত্ব পালন করা অন্য সংগঠন।’
মতবিনিময় সভায় এপিবিএনের গত আগস্ট মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাফল্যের তথ্যও তুলে ধরেন ডিআইজি। তিনি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন, তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ৫৭২ জন। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২টি ইয়াবা, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা করা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা করা হয়েছে এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। বিক্রয় নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্প এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাচালানি ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৭:৫৫ ৯ বার পঠিত