![]()
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে নওগাঁয় পৃথক দুটি জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
আজ শনিবার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে সদর উপজেলার বলিহার এলাকায় অবস্থিত বলিহার রাজবাড়ীও পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু ফুলেল তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সহকারী হাইকমিশনারকে। যৌথভাবে তারা বলিহার রাজবাড়ী চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পরিদর্শনকালে তারা ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর বিভিন্ন অংশ ও প্রাচীন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে মন্দির কমিটিসহ স্থানীয়রা বলিহার রাজবাড়ী ও মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কারের দাবি জানান। এসময় রাজবাড়ীটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সেই সাথে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সার্বিক উন্নয়নের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। তাকে সার্বিক সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন এমপি ডা. ইকরামুল বারী টিপু। এরপর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার আরেকটি ঐতিহাসিক স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে পরিদর্শনে যান।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, বলিহার রাজবংশের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৮২৩ সালে জমিদার রাজেন্দ্রনাথ এখানে একটি রাজ-রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। তিনি মন্দিরে পিতলের তৈরি রাজেশ্বরী দেবীর একটি মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। মূর্তটি বলিহারসহ এই অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ছিল। বলিহার জমিদার পরিবার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নৃসিংহ চক্রবর্তী।
সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক জায়গির লাভ করে বলিহারের জমিদাররা এ এলাকায় নানা স্থাপনা গড়ে তোলেন যার মধ্যে বলিহার রাজবাড়ি অন্যতম।
অপরদিকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারটি মোট ৭০ দশমিক ৩১ একর জমির উপর অবস্থিত। আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা করা হয়। ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। কথিত আছে বাংলার সুবিখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও কুমার শরৎকুমার রায় ১৯২৩ সালের ১ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে সোমপুর বিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু করেন এবং এই খননের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এটি ছিল একটি বৌদ্ধ মন্দির ও তৎকালীন বৃহত্তর বিদ্যাপীঠ। সে সময় ভিক্ষুরা পড়ালেখা করতো। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা হয়। কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর চেষ্টায় বর্তমানে বিহারটিকে আধুনিক মানের করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪২:৩৯ ৪ বার পঠিত