মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরিষাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও অ্যাম্বুলেন্সে অপহরণের চেষ্টা, ক্লাস বর্জন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সরিষাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও অ্যাম্বুলেন্সে অপহরণের চেষ্টা, ক্লাস বর্জন
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬



সরিষাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও অ্যাম্বুলেন্সে অপহরণের চেষ্টা, ক্লাস বর্জন

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে স্কুলে আসার পথে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে এক প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধর এবং অ্যাম্বুলেন্সে তুলে অপহরণ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়রা জামে মসজিদ ও উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

​ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম সাইফুর রহমান বাসেদ। তিনি রুদ্র বয়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। শিক্ষককে মারধর ও অপহরণ চেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিচার দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

​বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বাসেদ মোটরসাইকেলে করে স্কুলে আসছিলেন। পথিমধ্যে রুদ্র বয়রা জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে চার অজ্ঞাত যুবক তাঁর পথ রোধ করে মোটরসাইকেলের চাবি বন্ধ করে দেয়। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং মসজিদের সামনে প্রস্তুত রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে জোরপূর্বক তোলার চেষ্টা চালায়। সেখানে তুলতে না পেরে তাঁকে মসজিদের পেছনে নিয়ে আবার মারধর করা হয়।

​শিক্ষকের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অপহরণ চেষ্টার পুরো দৃশ্যটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। বর্তমানে মোটরসাইকেলটি স্থানীয় বিএনপি নেতার জিম্মায় থাকলেও অপহরণে ব্যবহৃত আটককৃত অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানীয় কয়েকজন নেতা ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বাসেদ বলেন, “আমাকে প্রথমে মোটরসাইকেলসহ সড়কে ফেলে দেওয়া হয় এবং টেনে-হিঁচড়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করা হয়। সেখানে নিতে না পেরে মসজিদের পেছনে নিয়ে মারধর করা হয়। আমার আশঙ্কা, আমাকে অপহরণ করে গুম করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

​শিক্ষকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ফকির বলেন, “একজন শিক্ষকের ওপর এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিছু অপরিচিত যুবক ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জেনেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

​ঘটনা প্রসঙ্গে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর জানান, ঘটনাটি তাঁরা জেনেছেন। তবে প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে অবগত করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল আমীন শামীম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৬:২৮   ৩৪ বার পঠিত