![]()
পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে সারা দেশে বাসযোগ্য ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
তিনি বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্লাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালির পূর্বে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। র্যালিটি জিয়া উদ্যান থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়।
গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা এবং রিহ্যাব ও বিআইপিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ যেন অপরিকল্পিতভাবে না হয়, সেজন্য মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আবাসন, সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আগামীকাল ৫ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও মেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিজ ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ মেলায় রিহ্যাব, নির্মাণ খাত, ব্যাংকিং সেবা, রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনাসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা অংশ নেবে।
আবাসন, নির্মাণ খাত এবং ব্যাংকিং সেবা পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের জন্য মেলায় মোট ১৫৭টি স্টল থাকছে। বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব বসতি দিবসে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই আবাসন বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামীকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
সেমিনারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘স্বল্প আয়ের আবাসনের স্থানভিত্তিক উন্নয়ন: ঢাকার দুটি ঘটনাভিত্তিক এলাকার প্রমাণ’; হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ‘হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আবাসন মডেল: বাংলাদেশে সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিতকরণে অগ্রগতি’; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন: পরিবর্তনশীল বিশ্বে আবাসন সরবরাহের ধরন নতুনভাবে ভাবা’; এবং হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটির পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশে সবার জন্য আবাসন: একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া দেশব্যাপী সব বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ, টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:১৮ ৭ বার পঠিত